গাজীপুরে ঝুটের গোডাউনে আগুন, দুই ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে
মেলবোর্ন, ২৭ আগষ্ট- গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে একটি ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার…
মেলবোর্ন, ২৭ আগষ্ট- দ্রোহ, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে, বর্তমান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের এই কালজয়ী কবি। দিবসটি উপলক্ষে নজরুল ইনস্টিটিউট, নজরুল একাডেমি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামের কাজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে উঠলেও প্রতিকূলতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল জীবনে তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে রেখে গেছেন অসামান্য অবদান।
কবিতা, গান, গজল, হামদ, নাথ, শ্যামাসংগীত, নাটক ও প্রবন্ধসহ সাহিত্যের নানা শাখায় নজরুলের ছিল অবাধ বিচরণ। তার লেখায় শোষণ, বৈষম্য, অন্যায় ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ যেমন উঠে এসেছে, তেমনি ফুটে উঠেছে মানবতা, সাম্য, প্রেম ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। তার সৃষ্টিকর্ম বাঙালির মনে নবজাগরণের চেতনা জাগিয়ে তুলেছিল।
নজরুল শুধু সাহিত্যচর্চার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। মানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন। তার কবিতা ও গান মানুষের মধ্যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সাহস জুগিয়েছে। তার বিখ্যাত পঙ্ক্তি, ‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ-তূর্য’ তার সৃষ্টিশীলতা ও সংগ্রামী চেতনার প্রতীক হয়ে আছে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে সপরিবারে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। তাকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে তার বসবাসের জন্য একটি বাড়ি দেওয়া হয়।
১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাজী নজরুল ইসলামকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দুদিনব্যাপী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এ আয়োজনের উদ্বোধন হবে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
‘আমারে দেবো না ভুলিতে…’ শীর্ষক এ আয়োজনে কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি থাকবে সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠান।
এদিকে নজরুল একাডেমি তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে। আজ সকাল ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন জাতীয় কবির সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। বাদ জোহর কবির সমাধিসংলগ্ন মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে মিলাদ মাহফিল।
আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৫টায় মগবাজারের বেলালাবাদ কলোনিতে নজরুল একাডেমির ‘কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে’ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ২৯ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টায় একই মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠান।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য কাজী নজরুল ইসলাম আজও বাঙালির কাছে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তার সাম্য, মানবতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বার্তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au