স্বামীর মৃত্যুতে বাসায় ফেরার তাড়াও নেই, ‘এখন আমি জামিন চাই না’: দীপু মনি
স্বামী তৌফিক নাওয়াজের মৃত্যুর পর এখন আর বাসায় ফেরার তাড়া নেই জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজের জামিন আবেদন প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।…
নেপালে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় নেপালের পুলিশ হতাহতের এ সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে এখনো প্রায় এক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
বুধবার সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ধসের পর আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়। এতে সীমান্তের দুই পাশেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে পর্যটন ও সীমান্ত বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে।
নেপাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭৮ জন ভারতীয়, ১২৭ জন নেপালি, ৬৫ জন আমেরিকান এবং ৩৩ জন যুক্তরাজ্যের নাগরিক। এ ছাড়া দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন।
অন্যদিকে, চীনের তিব্বত অংশে তিনজন নিহত এবং ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ফলে সীমান্তের উভয় পাশে নিহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, হিমবাহ ধসের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ নেমে আসার কারণে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। নদীতে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে যাওয়ায় পরবর্তী সময়ে আরও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
দুর্যোগের পর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে নেপাল সরকার। বৃহস্পতিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি নুয়াকোট জেলার বিদুর এবং আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত জনপদ ঘুরে পরিস্থিতি দেখেন এবং উদ্ধার কার্যক্রমের খোঁজ নেন।
এদিকে, চীনের তিব্বত অংশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চীন ও নেপালের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের অন্যতম প্রধান সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র গিরং স্থলবন্দর আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানির সঙ্গে নেমে আসা কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে স্থলবন্দরটির বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং তিব্বতের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এর আগে বুধবার চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সর্বাত্মক উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন।
দুর্যোগের পর থেকে সীমান্তের উভয় পাশে উদ্ধারকারী দল নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, নদীতে ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ এবং যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতায় নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাদের সন্ধান ও পরিচয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au