স্বামীর মৃত্যুতে বাসায় ফেরার তাড়াও নেই, ‘এখন আমি জামিন চাই না’: দীপু মনি
স্বামী তৌফিক নাওয়াজের মৃত্যুর পর এখন আর বাসায় ফেরার তাড়া নেই জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজের জামিন আবেদন প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।…
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে পাহাড়ি ধসে দুটি নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল একটি ‘ব্যারিয়ার লেক’ বা প্রাকৃতিক বাঁধে আটকে থাকা হ্রদ। ইতোমধ্যে হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমতে পারে বলে সতর্ক করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এতে পাহাড়ি মাটি ও পাথরের তৈরি প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে ফের ভয়াবহ হড়পা বান বা আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
বৃহস্পতিবার চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি ও গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে চীনা কর্তৃপক্ষ। সম্ভাব্য বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় জরুরি উদ্ধার ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
নেপালের ছোছেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে ভূমিধসের কারণে নতুন এই হ্রদটির সৃষ্টি হয়েছে। দুটি নদীরই উৎপত্তি তিব্বতে। নেপালে প্রবেশের আগে নদী দুটি একত্রিত হয়ে ভোটেকোশী নামে প্রবাহিত হয়েছে। ভোটেকোশী পরে ত্রিশূলী নদীর প্রধান উপনদীতে পরিণত হয়েছে।
চীনা কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, হ্রদটিতে পানির পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকলে প্রাকৃতিক বাঁধের ওপর চাপও বাড়বে। একপর্যায়ে বাঁধটি ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ পানি, পাথর ও পলি একসঙ্গে ভাটির দিকে নেমে যেতে পারে। এতে নদী অববাহিকার জনপদ, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
এরই মধ্যে বুধবার নেপালের রাসুওয়া জেলায় ভোটেকোশী নদীতে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা আঘাত হানে। প্রবল স্রোত তিমুরে ও স্যাফ্রুবেসি এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। সড়ক, সেতু, ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ভেসে যায়। পরে পানির স্রোত ত্রিশূলী নদীর দিকে ধাবিত হয়।
এই আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও তিব্বত সীমান্তজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নেপাল সরকারের হিসাবে, বুধবারের দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৩৩২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রায় ৭০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জন ভারতীয় বলে জানা গেছে।
তিব্বতের দিকেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। চীনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে সেখানে ২০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া অন্তত ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বতে প্রায় ২০০ ভারতীয় তীর্থযাত্রী ও পর্যটক আটকা পড়েছেন বলেও জানা গেছে।
বুধবারের আকস্মিক বন্যার কারণ নিয়েও চলছে বিশ্লেষণ। ভূবিজ্ঞানীদের একটি অংশের ধারণা, তুষারধস ও ভূমিধসের কারণে কোনো একটি নদীর প্রবাহ সাময়িকভাবে আটকে গিয়ে সেখানে বিপুল পরিমাণ পানি জমেছিল। পরে সেই প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে গেলে আকস্মিক জলস্রোত নেমে আসে। একই সঙ্গে হিমবাহের বরফগলা পানিতে তৈরি কোনো ছোট হ্রদ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানের অধ্যাপক রিজন ভক্ত কায়স্থের মতে, নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে জমে থাকা পানির চাপ একপর্যায়ে পাথরের স্তর ভেঙে দিতে পারে। সেই পানি দ্রুত নিচের দিকে নেমে ভোটেকোশী নদীতে প্রবল স্রোত তৈরি করে থাকতে পারে।
এদিকে নতুন করে তৈরি হওয়া হ্রদটি পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হ্রদের পানির স্তর ও প্রবাহের পরিবর্তন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য বাঁধ ভেঙে গেলে যাতে দ্রুত সতর্কতা জারি ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা যায়, সে জন্য হাইড্রোলজিক্যাল পর্যবেক্ষণ এবং বন্যার পূর্বাভাস ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
ভাটির দিকে নেপালের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও সম্ভাব্য বড় ধরনের বন্যার প্রভাব ভারতের বিহার ও পূর্ব উত্তরপ্রদেশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভূবিজ্ঞানীদের একাংশ। ফলে সীমান্তের উভয় পাশে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার পাশাপাশি নতুন হ্রদটির ওপরও নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র- আনন্দবাজার.কম
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au