রংপুরে চার হত্যার প্রতিবাদে রাজপথে নামছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। ছবিঃ সংগৃহীত
রংপুর নগরে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার প্রতিবাদে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
আগামী ২৯ আগস্ট (শনিবার) সকাল ১১টায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির প্রচারিত কর্মসূচির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রংপুরের আলোচিত চার হত্যাকাণ্ডসহ সারাদেশে চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে ‘ধর্মীয় রাষ্ট্র নয়, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই’ এবং ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ স্লোগান সামনে রাখা হয়েছে।
এর আগে, সংগঠনটির ২৩ আগস্টের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রংপুর মহানগরের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে রংপুর জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রীতম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ রায়কে গ্রেপ্তার করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, ২০ আগস্ট রাতে গলায় রশি ও গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে চারজনকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের রংপুর মহানগর কমিটির আহ্বায়ক অলক নাথ, রংপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্বপন রায় এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক গোপাল বর্মণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ সময় সংগঠনের নেতারা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একটি পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের কর্মসূচিকে সামনে রেখে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আয়োজকদের বক্তব্য, শুধু রংপুরের চার হত্যাকাণ্ড নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রতিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।