অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল ভট্টাচার্যকে বেঁধে রড দিয়ে পিটিয়ে ৬ ভরি স্বর্ণ ও প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাতের দল।ছবিঃ সংগৃহীত
চট্টগ্রামের পটিয়ায় এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে মুখোশধারী একদল দুর্বৃত্ত ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করেছে। এ সময় বাড়ির পাশের কক্ষে থাকা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল ভট্টাচার্যকে (৭৮) অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা গ্রামে ইউপি সদস্য প্রবীর ভট্টাচার্যের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বাবুল ভট্টাচার্য পুলিশের সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই)।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রবীর ভট্টাচার্যের মেয়ে সন্তানসম্ভবা হওয়ায় পরিবারের সবাই চট্টগ্রাম নগরের একটি ক্লিনিকে অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে রাতের দিকে সাত থেকে আটজন মুখোশধারী অস্ত্রধারী ব্যক্তি বাড়িতে ঢোকে। তারা দরজার তালা কেটে ঘরে প্রবেশ করে।
বাড়ির পাশের ঘরে থাকা বাবুল ভট্টাচার্য বিষয়টি টের পেয়ে বাইরে বের হলে দুর্বৃত্তরা তাকে জিম্মি করে। পরে তাকে প্রবীর ভট্টাচার্যের ঘরে নিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে রড দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তারা ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।
প্রবীর ভট্টাচার্যের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা ঘর থেকে প্রায় ছয় ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। লুট হওয়া টাকার মধ্যে জমি কেনার জন্য দুই দিন আগে ব্যাংক থেকে তোলা ৪ লাখ টাকাও ছিল। বাকি টাকা আগে থেকেই বাড়িতে রাখা ছিল।
আহত বাবুল ভট্টাচার্য জানান, রাতে উঠানে বের হয়ে তিনি সাত থেকে আটজন অস্ত্রধারীকে দেখতে পান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা তাকে জিম্মি করে মারধর শুরু করে। দুর্বৃত্তরা সবাই মুখোশ পরা ছিল। মারধরের কারণে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ও আঘাতের চিহ্ন হয়েছে। ডাকাতির পর তাকে ছেড়ে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সামা বিনতে সফিউল জানান, ভোরে বাবুল ভট্টাচার্য চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। তবে শরীরের অন্য কোথাও গুরুতর জখম দেখা যায়নি। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পটিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি চুরির ঘটনা বলে মনে হয়েছে। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা করছে। লুট হওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধারের পাশাপাশি হামলার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।