ক্রিপ্টো বাজার।ছবিঃ সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও দরপতনের পর আবারও চাঙা হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজার। অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিপ্টো খাত নিয়ে নীতিগত পরিবর্তন এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে। এর প্রভাবে বিটকয়েন, ইথেরিয়াম, সোলানাসহ প্রধান ডিজিটাল মুদ্রাগুলোর বাজারে লেনদেন ও বিনিয়োগের আগ্রহ বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের জন্য আরও স্পষ্ট আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির উদ্যোগ বাজারের অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে দেশটির সরকারি পর্যায়ে ডিজিটাল সম্পদের প্রতি তুলনামূলক ইতিবাচক অবস্থান বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। ডলারের মূল্য দুর্বল হওয়ার প্রবণতার মধ্যেও অনেকে বিটকয়েন ও স্বর্ণের মতো বিকল্প সম্পদে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন।
অস্ট্রেলিয়াতেও ক্রিপ্টো খাত নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে। দেশটি ২০২৭ সাল থেকে ক্রিপ্টো শিল্পের জন্য একটি বিস্তৃত নিয়ন্ত্রক কাঠামো চালুর পরিকল্পনা করছে। এর ফলে ক্রিপ্টো ব্যবসায় স্বচ্ছতা বাড়ার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ডিজিটাল সম্পদের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য। দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের ডিজিটাল সম্পদে বিনিয়োগ করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে উন্নত দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ক্রিপ্টোকারেন্সির অন্যতম সক্রিয় বাজার হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতিতে বিটকয়েনের পাশাপাশি ইথেরিয়াম, সোলানা এবং অন্যান্য বড় ক্রিপ্টোকারেন্সির দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হওয়ায় বাজারে লেনদেনের পরিমাণও বাড়ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজার এখনও অত্যন্ত অস্থির এবং ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারি নীতি, সুদের হার, ডলারের মূল্য এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সামান্য পরিবর্তন হলেও ডিজিটাল মুদ্রার দামে বড় ধরনের ওঠানামা হতে পারে। তাই সাম্প্রতিক উত্থানকে স্থায়ী বাজার পুনরুদ্ধার হিসেবে দেখার আগে পরিস্থিতি আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।