অটোরিকশার ধাক্কায় মেয়ের আহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তার ক্ষোভ।
সকালে নিজ হাতে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা আনসারুল করিম। দুপুরে স্কুল ছুটির পর বাসার সামনে মেয়েকে নামানোর সময় দ্রুতগতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় রাস্তায় ছিটকে পড়ে রক্তাক্ত হতে দেখেন তিনি। মেয়ের এমন দুর্ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে ফেসবুকে প্রশ্ন তুলেছেন, নিজের সন্তানের নিরাপত্তাই যদি নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে অন্য মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব।
সোমবার (০২ সেপ্টেম্বর) বেলা দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের খুলশি জালালাবাদ সোসাইটির ৩ নম্বর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শিশুটির নাম নাওয়াল আনসারী। তার বাবা আনসারুল করিম চট্টগ্রাম নগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তর বিভাগে কর্মরত। এর আগে তিনি খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আনসারুল করিম জানান, সকাল আটটার দিকে তিনি নিজেই মেয়েকে স্কুলে দিয়ে আসেন। স্কুল ছুটির পর দুপুরে নাওয়াল একটি ট্যাক্সি থেকে নেমে বাসার প্রধান ফটকের দিকে যাওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এসে তাকে ধাক্কা দেয়। এতে নাওয়াল ছিটকে রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হয়।
দুর্ঘটনায় নাওয়ালের দুই হাত, মাথা, ঠোঁট, কপাল ও পুরো মুখমণ্ডলে আঘাত লাগে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে প্রথমে জিইসি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার পর সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আনসারুল করিম। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারি চাকরিতে থেকেও যদি নিজের সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, মেয়েকে ধাক্কা দেওয়া অটোরিকশাটি ছিল অবৈধ ও নিবন্ধনবিহীন। এসব যানবাহনের নির্দিষ্ট গতিসীমা না থাকায় অনেক চালক বেপরোয়া গতিতে চলাচল করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রশিক্ষণ ও বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া অটোরিকশা চালানোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আনসারুল করিম বলেন, বড় ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হলেও বেপরোয়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এর ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। নগরের কোন সড়কে এসব যান চলাচল করতে পারবে, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশনকে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। কোনো অটোরিকশা জব্দ করা হলে সেটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার পক্ষেও মত দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
চট্টগ্রাম নগরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে দুর্ঘটনা নতুন নয়। বিভিন্ন সময় এসব যানবাহনের ধাক্কা কিংবা অন্য যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে অনেকে আহত হয়েছেন, ঘটেছে প্রাণহানির ঘটনাও। গত বছর নগরের বিভিন্ন এলাকায় এসব অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল। পরে মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হলেও নগরের সড়কগুলোতে এর চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের পর নগরের বিভিন্ন অলিগলিতে এসব অটোরিকশার চলাচল আরও বেড়েছে। সন্ধ্যার পর অনেক অটোরিকশাকে মূল সড়কেও চলতে দেখা যায়। চকবাজার, ডিসি রোড, বাকলিয়া এক্সেস রোডসহ নগরের বিভিন্ন সড়কে রাতের দিকে এসব যানবাহনের চলাচল চোখে পড়ে। ফলে দুর্ঘটনা রোধে নেওয়া অভিযান ও নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।