ডেমরায় ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে রিকশাচালককে হত্যা
ঢাকার ডেমরার কামারভোগ এলাকায় দেলোয়ার হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যাটারিচালিত রিকশাচালককে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এ ঘটনা…
নরসিংদীর শিবপুরে পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত বাবাকে ছুরিকাঘাত ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বড় ছেলের বিরুদ্ধে। এ সময় বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে পরিবারের আরও দুই সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে পালিয়ে গেছে। পুলিশ বলছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে এবং প্রায় পাঁচ মাস আগে তিনি জামিনে কারাগার থেকে বের হন।
শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে শিবপুর উপজেলার ভরতেরকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল বাছেদ মিয়ার বয়স ৬৫ বছর। তিনি ওই গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে। পেশায় তিনি ছিলেন ভ্রাম্যমাণ ওষুধ বিক্রেতা। তাঁর দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। অভিযুক্ত শাকিল চৌধুরী (৩৫) তাঁর বড় ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে আব্দুল বাছেদ মিয়া ও তাঁর ছেলে শাকিল একই ঘরে ঘুমাতে যান। সে সময় বাবা-ছেলের মধ্যে কোনো ধরনের ঝামেলা হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেননি। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ওই ঘর থেকে শব্দ শুনতে পান পরিবারের অন্য সদস্যরা।
পরে তাঁরা অন্ধকার ঘরে গিয়ে দেখতে পান, আব্দুল বাছেদ মিয়াকে ঘুমন্ত অবস্থায় ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। এরপর তাঁকে ধারালো অস্ত্র ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি ঘরের মধ্যে পড়ে যান।
এ সময় তাঁর স্ত্রী সখিনা বেগম ও অপর ছেলে রাশেদ তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁদের ওপরও হামলার চেষ্টা করা হয়। এতে তাঁরা দুজন আহত হন। পরে তাঁদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ঘটনাটি জানতে পারেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে শিবপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুল বাছেদ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় অভিযুক্ত শাকিল চৌধুরী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
নিহতের মেয়ে হাফসা বেগম বলেন, তাঁর বাবা অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি বলেন, “আমরা তার মৃত্যুদণ্ড চাই। তা না পারলে আমাদের কাছে দেন, আমরা বিচার করব। আমার বাবাকে মেরে ফেলেছে। সে আমাদের সবাইকে মারতে চায়। আমরা ভয়ে আছি। আমরা তার ফাঁসি চাই।”
শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কোহিনুর মিয়া বলেন, ছেলের হাতে বাবা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত পালিয়ে গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে আগেও মামলা রয়েছে এবং প্রায় পাঁচ মাস আগে তিনি জামিনে কারাগার থেকে বের হয়েছেন।
ওসি বলেন, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au