স্পেনের উপকূলে ভাসমান নৌকা থেকে ৮০ মরদেহ উদ্ধার
স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উপকূলের কাছে ভাসমান একটি নৌকা থেকে ৮০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। একই নৌকা থেকে ৪৪ জনকে…
ঢাকার সাভারে এক শিশু মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হওয়ার এক সপ্তাহ পর মারকাযুল উলুম আশ-শরইয়্যাহ মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত ১০ জনের কাউকেই এ সময় গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সাভার উপজেলার পূর্ব শাহীবাগ এলাকায় অবস্থিত মাদ্রাসাটিতে এ অভিযান চালানো হয়। সাভার মডেল থানার পরিদর্শক মো. আব্দুস সবুরের নেতৃত্বে পুলিশের দুটি দল অভিযানে অংশ নেয়।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় তারা মাদ্রাসায় উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মামলার আসামি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নথিপত্র যাচাই করেন। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও সেখানে থাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পুলিশকে জানান, অভিযুক্তরা আগেই পালিয়ে গেছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তাদের কাউকে না পাওয়ায় পুলিশ দলটি মাদ্রাসা থেকে ফিরে আসে।
এর আগে শিশুটির বাবা মাদ্রাসার ছয় শিক্ষার্থী ও চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার আবেদন করেন। পরে আদালতের নির্দেশে গত ২৬ আগস্ট সাভার মডেল থানায় মামলা করা হয়। মামলায় এক শিক্ষক ও পাঁচ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। বাকি চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপারেশন ও ট্রাফিক-উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবার প্রথমে থানায় না গিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর সাভার মডেল থানায় মামলা করা হয়।
তিনি বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকেই আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করতে একাধিক সূত্রের মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের গ্রেপ্তারে অভিযানও চলছে। তবে বৃহস্পতিবারের অভিযানে আসামিদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
মো. জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতার পাশাপাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
এদিকে আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিশুটির বাবা। তিনি অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে প্রায় ছয় মাস ধরে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক ধর্ষণ করেছেন। এতে তার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শিশুটির বাবার অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে তিনি মাদ্রাসার প্রধানের কাছে বিচার চেয়েছিলেন। তবে অপরাধীদের আইনের হাতে তুলে না দিয়ে তাদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করা হয়েছে। তাকে বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকতে বলা হয়েছিল এবং পরে হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ছেলের চিকিৎসা শেষে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। পরে আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা করা হয়। মামলায় মাদ্রাসার প্রধানসহ মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের কাছে তার দাবি, দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।
মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাটিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় উল্লেখ করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে যেন নির্দোষ শিক্ষক বা শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার না হন, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। তাদের দাবি, মামলার পাঁচ অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বয়স ১৩ বছর বা তার কম।
মাদ্রাসাটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও হিসাবরক্ষক লোকমান বলেন, কেউ কোনো অন্যায় বা অপরাধ করে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে ওই ব্যক্তির শাস্তি হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, শিশুটির বাবার সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল এবং কয়েকবার তার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তবে তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে তাকে থানায় মামলা করতে বলা হয় এবং মাদ্রাসার পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
লোকমান আরও বলেন, তারা চান তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত হোক এবং ঘটনার সঠিক বিচার হোক।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au