আগে ‘শিবির’, এখন ‘ছাত্রলীগ’: বদলায়নি ট্যাগিংয়ের রাজনীতি
বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিক দল, সংগঠন বা মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত করে চিহ্নিত করার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার সমীকরণ বদলালেও এই…
‘রাজনৈতিক ইসলাম’ ও উগ্রবাদ ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে মুসলিম ব্রাদারহুডসহ কয়েকটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে অস্ট্রিয়া সরকার। দেশটির সংবিধানের আওতায় এসব সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ার ইউরোপ, সংহতকরণ ও পরিবারবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী ক্লডিয়া বাউয়ার।
শনিবার(৫ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রিয়ান প্রেস এজেন্সিকে দেওয়া বক্তব্যে ক্লডিয়া বাউয়ার বলেন, ক্রমবর্ধমান উগ্রবাদ মোকাবিলায় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় অস্ট্রিয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন ‘ইসলামিক রিলিজিয়াস কমিউনিটি ইন অস্ট্রিয়া’ বা আইজিজিওও আসতে পারে।
আইজিজিওর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক ইসলামের প্রভাব শুধু নির্দিষ্ট কিছু সংগঠনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভেতরেও তা সূক্ষ্মভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই কোনো সংগঠনকেই আগেভাগে নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন তিনি।
মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতাদেরও উগ্রবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাউয়ার। তার অভিযোগ, অতীতে উগ্রবাদ প্রতিরোধে মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ খুব একটা দেখা যায়নি।
বাউয়ার জানান, মুসলিম ব্রাদারহুডসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞার একটি প্রাথমিক খসড়া খুব শিগগিরই অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টি বা ওভিপির জোটসঙ্গীদের কাছে জমা দেওয়া হবে।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ক্রিশ্চিয়ান স্টকার দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম ওআরএফকে জানিয়েছিলেন, ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ বা উগ্র ইসলামের নামে চরমপন্থা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সরকার আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিতে চায়। মন্ত্রী ক্লডিয়া বাউয়ারের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে সেই কঠোর নীতিরই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে সরকারের এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন আইজিজিওর চেয়ারম্যান উমিত ভুরাল। তিনি বলেন, আইনগতভাবে স্বীকৃত এই সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রিয়া সরকারের বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে।
উমিত ভুরাল বলেন, ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ নিয়ে বারবার বিতর্ক তৈরি করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে সরকার ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা উচিত। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে ক্লডিয়া বাউয়ারের সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়াকে উৎসাহিত করার বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভুরাল আরও বলেন, নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার আগে কোন ধরনের আচরণ বা কাঠামোকে চরমপন্থা হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তা আইনপ্রণেতাদের স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের প্রতি আরও দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au