একই কলেজের আট হিন্দু শিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি, হত্যার হুমকি
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ‘সর্বহারা পার্টির’ সদস্য পরিচয়ে একটি কলেজের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আট শিক্ষককে মুঠোফোনে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। টাকা না দিলে শিক্ষক ও…
বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তের মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।
রয়টার্সের দেখা পদত্যাগপত্র অনুযায়ী, বুধবার ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান সায়মা ওয়াজেদ। তার বিরুদ্ধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ তদন্ত করছিল।
পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন। তবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধার কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বের ওপর তার আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রায় এক বছর ধরে বেতন না পাওয়ায় তার আর্থিক পরিস্থিতিও অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এসব পরিস্থিতির কারণে তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার নিয়োগ ও যোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও অভিযোগ ওঠে।
পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে একটি জমি অবৈধভাবে নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে তুলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে তার দাবি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি পেয়েছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় ওই জমি পাওয়ার অধিকার তার ছিল বলেও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশেও দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে তদন্ত ও মামলা হয়েছে। গত বছরের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করে। এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে তাকে বেতনবিহীন প্রশাসনিক ছুটিতে রাখা হয়। এর ফলে আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে তার নিয়মিত দায়িত্ব পালন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
গত ৩ জুলাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দেওয়া সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীদের পৃথক একটি চিঠিতেও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। ওই চিঠি অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাকে চীন সফরের সময় আর্থিক জালিয়াতি এবং নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। তার আইনজীবীদের পক্ষ থেকেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে।
পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বের প্রতি তার অসন্তোষের কথাও তুলে ধরেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনে তাকে বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বেতন না পাওয়ার বিষয়টিকেও পদত্যাগের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তার পদত্যাগের ফলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদটি এখন শূন্য হচ্ছে। পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়লেন তিনি।
সায়মা ওয়াজেদের পদত্যাগ এমন এক সময়ে হলো, যখন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে একাধিক পর্যায়ে তদন্ত চলছিল। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো তদন্তাধীন এবং সেগুলো আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রমাণিত হয়েছে, এমন তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au