চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা আর নেই
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা আর নেই। বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বিস্তারিত আসছে…
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ‘সর্বহারা পার্টির’ সদস্য পরিচয়ে একটি কলেজের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আট শিক্ষককে মুঠোফোনে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। টাকা না দিলে শিক্ষক ও তাঁদের স্বজনদের হত্যাসহ ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক পরেশ কুমার পাল গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বোয়ালমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। জিডিতে আরও চার শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পরে একই ধরনের হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আরও তিন শিক্ষক।
হুমকি পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন কলেজটির সহযোগী অধ্যাপক পরেশ কুমার পাল, দেবাশীষ রায়, নিলয় কুমার সাহা, সজল কান্তি বিশ্বাস, প্রদীপ কুমার সাহা, সঞ্জীব কুমার রায় এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রবিন লস্কর ও স্বপন কুমার বিশ্বাস। তাঁদের সবাই হিন্দু সম্প্রদায়ের বলে জানা গেছে।
কলেজটিতে বর্তমানে ৫৮ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।
জিডিতে পরেশ কুমার পাল উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫৭ মিনিটে কলেজে অবস্থানকালে তাঁর মুঠোফোনে একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনদাতা নিজেকে ‘গৌতম বিশ্বাস’ পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, ‘সর্বহারা পার্টির’ বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য তিনি।
একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি পরেশ কুমার পালকে হত্যার হুমকি দেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফোনদাতা দাবি করেন, তাঁদের কয়েকজন সহকর্মী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাঁদের ছাড়িয়ে আনতে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন। এ জন্য প্রত্যেক শিক্ষকের কাছে অন্তত ২৫ হাজার ৫০০ টাকা করে দাবি করা হয় বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন পরেশ কুমার পাল।
টাকা না দিলে প্রত্যেক শিক্ষককে একেক ধরনের ভয়াবহ পরিণতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সহযোগী অধ্যাপক নিলয় কুমার সাহা বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে তাঁদের আটজন হিন্দু সহকর্মীকে একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তিনি বলেন, তাঁদের সাবেক এক সহকর্মী ইতিমধ্যে একটি বিকাশ নম্বরে ৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন।
সহযোগী অধ্যাপক দেবাশীষ রায়ের অভিযোগ, তাঁকে ফোন করে লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা জানালে তাঁর ছেলের পায়ে গুলি লাগলে যেভাবে টাকা সংগ্রহ করে চিকিৎসা করাবেন, সেভাবেই টাকা সংগ্রহ করে চাঁদার টাকা পাঠাতে বলা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষক জানান, টাকা না পাঠালে তাঁদের রংপুরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনার মতো নির্মম পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
জিডি করার পর একই ধরনের অভিযোগ জানিয়েছেন কলেজটির আরও তিন শিক্ষক। তাঁরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রবিন লস্কর, স্বপন কুমার বিশ্বাস এবং বর্তমান সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জীব কুমার রায়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে নিজেদের চরমপন্থী সংগঠনের সদস্য পরিচয় দেওয়া হয়েছে। ফোনে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করার পাশাপাশি টাকা না দিলে শিক্ষক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষকরা বলছেন, একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষককে অল্প সময়ের ব্যবধানে একই ধরনের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিক্ষক ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও উঠেছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চরমপন্থী কোনো সংগঠনের নাম ব্যবহার করে প্রতারক চক্র এ ধরনের হুমকি দিয়ে থাকতে পারে। তবে কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং প্রকৃতপক্ষে কোনো চরমপন্থী সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ ঘটনায় যে বা যারাই জড়িত থাকুক, তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হুমকির জন্য ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর, কলের ধরন এবং অর্থ পাঠানোর জন্য দেওয়া বিকাশ নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মী নিলয় চক্রবর্তী। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের হিন্দু সম্প্রদায়ের আট শিক্ষককে মুঠোফোনে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি এবং টাকা না দিলে শিক্ষক ও তাঁদের স্বজনদের হত্যার হুমকির ঘটনায় তাঁরা উদ্বিগ্ন।
তিনি বলেন, ঘটনাটি প্রায় এক সপ্তাহ আগে ঘটলেও সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁর দাবি, ঘটনার সঠিক রহস্য দ্রুত উদঘাটন করে চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।
পুলিশ বলছে, অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au