নাইন-ইলেভেনের পর বদলে যায় আমেরিকা ও মুসলিম বিশ্বের সম্পর্ক
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে মাত্র ১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুটি বিমান আঘাত হানে। একই দিনে আরও দুটি বিমান ছিনতাই…
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে প্রায় তিন মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সকালে এ অভিযোগ জানাজানি হলে মাদ্রাসায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন শিশুটির স্বজন ও স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন ও মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকে আটক করে।
আটক আল আমিন মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের শ্বশ্বধরপট্টি গ্রামের আব্দুল মালেক মিয়ার ছেলে। প্রায় তিন বছর আগে তিনি ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি মার্কেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ভাড়া নিয়ে প্রায় পাঁচ বছর আগে ফতেপুর ইউনিয়নের পারদিঘী গ্রামের হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান ‘মারকাজুল উম্মাহ মাদ্রাসা’ প্রতিষ্ঠা করেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা সদরের ওই শিশুকে মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে আবাসিক ব্যবস্থায় রাখা হয়।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসায় থাকার সুযোগ নিয়ে শিক্ষক আল আমিন গত তিন মাস ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও নানা প্রলোভনে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন।
এরপর শিশুটির পেটে ব্যথা ও রক্তপাতসহ শারীরিক নানা সমস্যা দেখা দেয়। অসুস্থতার কথা জানালে তার মা তাকে ছুটিতে বাড়িতে নিয়ে যান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়িতে থাকার একপর্যায়ে শিশুটির নানা আজিজুর রহমান টয়লেটে রক্ত দেখতে পান। বিষয়টি তিনি শিশুটির মাকে জানান। তবে ভয়ে তখনও শিশুটি নির্যাতনের কথা পরিবারের কাছে প্রকাশ করেনি।
পরে জামুর্কী, মির্জাপুর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে তার চিকিৎসা করানো হয়।
চিকিৎসা শেষে প্রায় ১১ দিন আগে শিশুটিকে আবার মাদ্রাসায় রেখে যান তার মা। পরিবারের দাবি, ওই ১১ দিনের মধ্যে আট দিনই শিশুটিকে নির্যাতন করা হয়।
একপর্যায়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সে মাকে বিষয়টি জানায়। পরে তার মা আবার তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
বৃহস্পতিবার মির্জাপুর সদরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে শিশুটির বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হয়। পরিবারের দাবি, পরীক্ষার পর চিকিৎসক শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে যৌন নির্যাতনের বিষয়টি তাদের জানান।
ঘটনার পর শুক্রবার সকালে শিশুটির মা, নানা ও মামা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করেন। এ সময় শিক্ষক ও প্রিন্সিপালের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়।
বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসায় জড়ো হন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা শিক্ষক আল আমিনকে মারধর করেন।
পরিবারের অভিযোগ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল গেট বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের হাতে লাঠি তুলে দিয়ে জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় উত্তেজনা আরও বাড়ে।
খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে প্রিন্সিপাল ও অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিক্ষক আল আমিন। তিনি বলেন, ‘আমি নির্দোষ। উপরে আল্লাহ আছেন, তিনি বিচার করবেন। ছাত্ররা তো মিথ্যা কথা বলেই, ওই ছাত্রও মিথ্যা বলছে।’
শিশুটির পেটব্যথার কারণে তাকে গ্যাস্ট্রোলিভার বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে আর প্রতিষ্ঠানে রাখা হবে না।জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কয়েকজন তার গলা চেপে ধরেছিলেন। সে কারণেই তিনি এমন নির্দেশ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী শিশুটির নানা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
শিশুটির মা-ও অভিযুক্ত শিক্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। তার অভিযোগ, ছেলে অসুস্থ থাকার কথা জানিয়ে তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিতে গেলে শিক্ষক আল আমিন গ্যাস্ট্রোলিভার বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন।
মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au