ভারতের ১৮৩ রান, শ্রীলংকার সামনে কঠিন লক্ষ্য
নারী এশিয়া কাপের দশম আসরের ফাইনালে শ্রীলংকার সামনে ১৮৪ রানের কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে ভারত। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত…
ইরান যুদ্ধকে ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ব্রিকস জোটের সদস্যদের মধ্যকার সম্পর্ক ও মতপার্থক্যও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে চীন, রাশিয়া, ইরান, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা একত্রিত হলেও নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থা কেমন হবে, তা নিয়ে সদস্যদের মধ্যে সুস্পষ্ট মতৈক্য দেখা যায়নি।
শনিবার ও রোববার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, বিশ্বের বর্তমান ব্যবস্থায় ব্রিকসের সদস্যদের শুধু নিয়ম মেনে চলা দেশ হিসেবে না থেকে নিয়ম প্রণয়নে ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। তার পাশে ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা।
তবে ব্রিকসের সদস্যদের সবাই যে স্বাভাবিক মিত্র, তা নয়। তাদের অনেকের মধ্যেই সীমান্ত বিরোধ, রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং সামরিক সংঘাতের ইতিহাস রয়েছে। ২০২০ সালে ভারত ও চীনের বিতর্কিত সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ হয়েছিল। আবার মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিপরীত অবস্থানে রয়েছে। ইরানের হামলা ও পাল্টা সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রভাব ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর অর্থনীতিতেও পড়েছে।
এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এসব মতপার্থক্যের মধ্যেও নয়াদিল্লিতে এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ দেশের নেতাকে একই টেবিলে আনতে পারা ভারতের কূটনৈতিক সক্ষমতার একটি বড় উদাহরণ। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সদস্য দেশগুলো নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও কৌশল নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ পেয়েছে।
তবে নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থা কেমন হবে, তা নিয়ে ঐকমত্য তৈরি করা এবং বাস্তব ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ছিল অনেক বেশি কঠিন। সম্মেলনের পুরো সময়জুড়েই এই দ্বন্দ্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
চীন, রাশিয়া ও ইরানের মতো কয়েকটি দেশের কাছে ব্রিকস যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের প্রভাব কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তবে ভারত ব্রিকসকে কোনোভাবেই পশ্চিমবিরোধী জোট হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী নয়।
সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদিও স্পষ্ট করে বলেন, ব্রিকস কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়। ভারতের জন্য এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নয়াদিল্লি এমন একটি কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, যেখানে পরস্পরের সঙ্গে মতবিরোধ থাকা দেশগুলোর সঙ্গেও ভারত যোগাযোগ ধরে রাখতে পারে।
ভারতের সাবেক কূটনীতিক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত অনিল ত্রিগুনায়েত বলেন, ব্রিকসের কিছু সদস্য এই জোটকে পশ্চিমবিরোধী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখতে চাইতে পারে। তবে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি সে রকম নয়। তার মতে, যুদ্ধের সময়ে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোই ভারতের অন্যতম লক্ষ্য।
এবারের সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো একটি যৌথ ঘোষণা গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের দুটি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে কোনো যৌথ বিবৃতিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে নয়াদিল্লি ঘোষণাকে একটি কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখা হলেও এতে সদস্য দেশগুলোর মতপার্থক্য এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট হয়েছে।
সম্মেলনের প্রথম দিনেই ‘নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন’ গ্রহণ করা হয়। তবে ঘোষণায় কোন বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়নি, সেটিও বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের বিষয়ে ঘোষণায় সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান জানানো হয়েছে। বেসামরিক অবকাঠামো এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানানো হলেও কোনো পক্ষকে সরাসরি দায়ী করা হয়নি।
এ ছাড়া ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের ক্ষেত্রে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার বিরোধিতা এবং দখলদারিত্বকে বৈধতা দিতে বা দীর্ঘায়িত করতে পারে এমন কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করা হয়েছে। তবে বিষয়গুলো জাতিসংঘের বিদ্যমান প্রস্তাবের কাঠামোর মধ্যেই সতর্কতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কোনো উল্লেখই নেই এবারের ঘোষণায়। আগের কয়েকটি ব্রিকস ঘোষণার তুলনায় এটিকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাণিজ্যনীতি নিয়েও ব্রিকসের অবস্থানে সতর্কতার ছাপ দেখা গেছে। ঘোষণায় নির্বিচারে বাড়তে থাকা শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ এবং একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি কাজ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ব্রিকসের বিভিন্ন উদ্যোগকে ‘অ্যান্টি-আমেরিকান’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। বিশেষ করে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবহারের মতো উদ্যোগ নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ রয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক প্রবীণ দোন্থি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের নিন্দা জানালেও কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করার বিষয়টি ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার মতে, শুল্ক নিয়ে ঘোষণায় তুলনামূলকভাবে জোরালো বক্তব্য থাকাটা কিছুটা বিস্ময়কর হলেও এর মাধ্যমে ভারত নিজের অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে।
সব মিলিয়ে, এবারের ব্রিকস সম্মেলন সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার পাশাপাশি তাদের ভিন্ন স্বার্থ ও কৌশলগত অবস্থানকেও সামনে নিয়ে এসেছে। ইরান যুদ্ধ, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বিশ্ব বাণিজ্যব্যবস্থা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও ব্রিকসকে কার্যকর রাখতে সদস্য দেশগুলো আপাতত সমঝোতার পথেই এগোচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে এই বৈচিত্র্যময় জোট কতটা ঐক্যবদ্ধভাবে বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au