ভারতের ১৮৩ রান, শ্রীলংকার সামনে কঠিন লক্ষ্য
নারী এশিয়া কাপের দশম আসরের ফাইনালে শ্রীলংকার সামনে ১৮৪ রানের কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে ভারত। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত…
ইরান যুদ্ধ, ইউক্রেন সংঘাত ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতিকে ঘিরে মতপার্থক্যের মধ্যেই ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলনের প্রথম দিনে যৌথ ঘোষণা গ্রহণ করেছেন জোটের সদস্য দেশগুলোর নেতারা। তবে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে কঠোর অবস্থান না নেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের নাম সরাসরি উল্লেখ না করায় ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ বিভাজন আবারও স্পষ্ট হয়েছে।
শনিবার সম্মেলনের প্রথম দিনেই ‘নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন’ নামে যৌথ ঘোষণাটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা কিংবা ইরানের পক্ষ থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো দেশকে দায়ী করা হয়নি।
এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে চলমান বাণিজ্য সংঘাত এবং একতরফা শুল্ক আরোপের সমালোচনা করা হলেও ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোটের সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পৃথক বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকায় এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ভারতসহ অন্য সদস্যরা।
সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ব্রিকস এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যাকে তিনি জোটটির ‘পরিণত হওয়ার সময়’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর শুধু অন্যদের তৈরি করা নিয়ম মেনে চললে হবে না, বরং বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে নিজেদের ভূমিকা আরও বাড়াতে হবে।
নরেন্দ্র মোদি একই সঙ্গে স্পষ্ট করে বলেন, ব্রিকসকে শুধু পশ্চিমবিরোধী কোনো জোট হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর ভাষায়, ‘ব্রিকস কারও বিরুদ্ধে নয়।’ বরং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রভাব বাড়ানোই জোটটির অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত।
২০০৬ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীনকে নিয়ে ব্রিকসের যাত্রা শুরু হয়। পরে দক্ষিণ আফ্রিকা এতে যোগ দেয়। সময়ের সঙ্গে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়াও জোটের সদস্য হয়েছে। বর্তমানে ১১টি দেশ নিয়ে গঠিত ব্রিকস বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে এবং বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত।
ব্রিকসের অন্যতম লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রভাব বাড়ানো। বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের দাবিও দীর্ঘদিন ধরে তুলে আসছে জোটটি।
নয়াদিল্লি সম্মেলনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি ছিল ইরান যুদ্ধকে ঘিরে সদস্য দেশগুলোর ভিন্ন অবস্থান। ইরান নিজেই ব্রিকসের সদস্য। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতও জোটের সদস্য এবং চলমান সংঘাতে ইরানের হামলার মুখে পড়েছে।
যৌথ ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইরান কিংবা উপসাগরীয় কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এক বিবৃতিতে বলেন, চলমান যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি রাজনৈতিক সমাধান এবং স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এবারের সম্মেলনে যৌথ ঘোষণা গ্রহণকে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা মেনন রাও মনে করেন, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও যৌথ ঘোষণা গ্রহণ করতে পারা নয়াদিল্লির জন্য উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সাফল্য।
তবে তাঁর মতে, ঐকমত্য ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে মূলত খুব সাধারণ ও সতর্ক ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে। এর মধ্য দিয়ে ব্রিকসের শক্তি ও সীমাবদ্ধতা দুটিই প্রকাশ পেয়েছে। জোটটি কঠিন বিষয় নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে এবং কিছু সাধারণ নীতিতে একমত হতে পারলেও সদস্যদের স্বার্থ যখন সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, তখন দায় নির্ধারণ বা যৌথ পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
যৌথ ঘোষণায় বেসামরিক অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সরাসরি কোনো দেশের নাম না থাকলেও, এই বক্তব্যকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরোক্ষ সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এবারের ব্রিকস সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো একটি যৌথ ঘোষণায় পৌঁছাতে সক্ষম হলেও ইরান যুদ্ধ, ইউক্রেন সংঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জোটের ভেতরের ভিন্ন অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক রাজনীতিতে ব্রিকসের প্রভাব বাড়লেও বড় আন্তর্জাতিক সংকটে অভিন্ন ও কার্যকর অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে জোটটির সামনে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
সুত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au