অস্ট্রেলিয়া

শত শত কোটি ডলার ব্যয়, তবু উগ্রপন্থা থেকে থামানো যাচ্ছে না: সাবেক এএফপি কর্মকর্তা

  • 11:28 pm - September 14, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৪৬ বার
সাবেক এএফপি কর্মকর্তা ডেভিড ক্রেগের চাঞ্চল্যকর দাবি, ডির‍্যাডিকালাইজেশন কর্মসূচিগুলো মূলত অকার্যকর এবং এতে ব্যয় করা শত শত মিলিয়ন ডলারেরও যথাযথ মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় উগ্রপন্থায় জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিদের পুনর্বাসন বা ডির‍্যাডিকালাইজেশন কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) কর্মকর্তা ডেভিড ক্রেগ। তাঁর দাবি, এসব কর্মসূচিতে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও অধিকাংশ অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসছে না।

ডেভিড ক্রেগের ভাষায়, ডির‍্যাডিকালাইজেশন কার্যকরভাবে সম্ভব করার চেষ্টা অনেকটা ইউনিকর্নের পেছনে ছোটা’র মতো।

বিষয়টি সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ে রয়্যাল কমিশনে সহিংস উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরা একটি ডির‍্যাডিকালাইজেশন কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অধিকাংশ ব্যক্তির উগ্রপন্থী মনোভাবের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে অস্ট্রেলিয়ার লেবার সরকারের ৭ কোটি ৫০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের ‘সাপোর্ট অ্যান্ড ইন্টারভেনশন প্রোগ্রাম’-এ প্রায় ৩০০ জন অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উগ্রপন্থায় জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিরাও ছিলেন।

‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দলের ২২৭ জনের ক্ষেত্রে উদ্বেগের মাত্রায় কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ডেভিড ক্রেগ বলেন, বিপুল অর্থ ব্যয় করেও কার্যকর ফল না পাওয়ার বিষয়টি হতাশাজনক। তবে বিষয়টি এখন প্রকাশ্যে আসায় তিনি সন্তুষ্ট।

সাবেক এই এএফপি কর্মকর্তা বলেন, অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও স্বীকার করেছে যে ডির‍্যাডিকালাইজেশন কর্মসূচির সাফল্য নির্ধারণের জন্য দেশজুড়ে কোনো ‘সামঞ্জস্যপূর্ণ সংজ্ঞা’ নেই।

ক্রেগের মতে, এসব কর্মসূচিতে ‘র‍্যাডিকালাইজেশন’ থেকে বের হয়ে আসা এবং উগ্রপন্থী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী থেকে ‘বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া’কে প্রায় একইভাবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু তাঁর মতে, দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তিকে উগ্রপন্থী ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রচারসামগ্রী থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হলেও এর মাধ্যমে তার আদর্শগত বিশ্বাস বা মতাদর্শ বদলানো নাও হতে পারে।

ক্রেগের ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে ওই ব্যক্তি উগ্রপন্থী মতাদর্শ ধরে রেখেও সমাজ ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারেন। এতে একাকী হামলা বা ‘লোন উলফ’ আক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং তাকে শনাক্ত করাও আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

ডির‍্যাডিকালাইজেশন কর্মসূচিতে বিপুল অর্থ ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ক্রেগ।

তিনি বলেন, ২০২২ সালে সরকার পার্লামেন্টকে জানিয়েছিল, ২০১৩ সাল থেকে বিভিন্ন সরকার ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এ খাতে ১২ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার ব্যয় করা হয়েছে। এরপর আরও ৬ কোটি ১০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত ১০ কোটি ৬০ লাখ ডলারও বরাদ্দের পথে রয়েছে।

ক্রেগ প্রশ্ন তোলেন, ১৩ বছর ধরে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরও যদি সাফল্য কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তার একটি সুস্পষ্ট সংজ্ঞাই না থাকে, তাহলে এই কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, কারা এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে, এতে তাঁদের কী পরিবর্তন হয়েছে, কর্মসূচি আদৌ সফল হয়েছে কি না, নাকি উল্টো পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে এবং এতে সমাজ কতটা নিরাপদ হয়েছে, এসব প্রশ্নের উত্তর জানা প্রয়োজন।

ক্রেগের মতে, ডির‍্যাডিকালাইজেশন কর্মসূচির সাফল্য শুধু কর্মসূচির কার্যক্রম দিয়ে নয়, বরং এতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরবর্তী আচরণ ও কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত।

আগস্টে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বন্ডি সন্ত্রাসী হামলার পর ডির‍্যাডিকালাইজেশন কর্মসূচিতে রেফারেলের সংখ্যা ২০ শতাংশ বেড়েছে।

তখনও ক্রেগ সতর্ক করে বলেছিলেন, এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যাচ্ছে না যে কর্মসূচিতে যুক্ত ব্যক্তিরা বাস্তবে সফলভাবে উগ্রপন্থা থেকে বেরিয়ে আসছেন কি না। বরং এসব কর্মসূচি সমাজে ‘সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আছে’—এমন একটি মিথ্যা নিরাপত্তাবোধ তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি মানুষের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করতে পারে। কেউ যখন জানতে পারেন যে কোনো ব্যক্তিকে ডির‍্যাডিকালাইজেশন কর্মসূচিতে পাঠানো হয়েছে, তখন মনে হতে পারে সমস্যাটির সমাধান হয়ে গেছে। কিন্তু ক্রেগের দাবি, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের কর্মসূচির অধিকাংশই কার্যকর নয়।

সূত্র : নিউজ২৪

এই শাখার আরও খবর

দাড়ি রাখতে পারবেন না কলকাতা পুলিশের মুসলিম কর্মীরা

কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত ৪৭ জন মুসলিম পুলিশ সদস্যের দাড়ি রাখার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ। চাকরিতে বহাল থাকতে হলে তাঁদের দাড়ি কামিয়ে…

বরিস জনসন সীমান্ত পার হতেই ইউক্রেনে রুশ ড্রোন হামলা

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ইউরোপের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বহনকারী ট্রেন সীমান্ত অতিক্রম করার পরপরই পোল্যান্ড সীমান্তসংলগ্ন ইউক্রেনের ইয়াগোদিন রেলওয়ে স্টেশনে ড্রোন হামলা চালিয়েছে…

মেয়ের সহপাঠীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে  ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখেন বাবা

জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর মেয়ের সহপাঠী ওই শিশুকে বাড়িতে…

লাল টুকটুকে গাল, টানা চোখে মিষ্টি হাসি, বরাহনগরে ভাইরাল ‘কিউট গণেশ’

লাল টুকটুকে ফোলা গাল, টানা চোখ, মুখে মিষ্টি হাসি। দেখতে যেন একেবারে পুতুলের মতো। বিশাল আকৃতির এই ‘কিউট গণেশ’ এখন পশ্চিমবঙ্গের বরাহনগরে রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।…

তদন্ত ভিন্নখানে নেয়ার অভিযোগ, নজরে দুই পুলিশ কর্মকর্তা

রংপুরে গত ১৯ আগস্ট সংঘটিত আলোচিত চার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একের পর এক গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ রয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল ব্যবস্থাপনা,…

ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাবি

ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au