আরব সাগরে ভারত-পাক নৌজাহাজের সংঘর্ষ, পাক কূটনীতিককে তলব নয়াদিল্লির
উত্তর আরব সাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় টহল দেওয়ার সময় ভারতীয় নৌসেনার একটি জাহাজের সঙ্গে পাকিস্তানি নৌসেনার একটি টহল জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দিল্লিতে নিযুক্ত…
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট। সংগঠনটির দাবি, যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা এবং দ্রুততার সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির আহ্বায়ক আকতার হোসেন ও সদস্য সচিব শেখ জামাল এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগের কথা জানান। বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠান নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের সদস্য আসাদুর রহমান।
বিবৃতিতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে। তবে এই বিচার কার্যক্রমে যথাযথ আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি উদ্বেগের কারণ বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাতজন হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালী আসিফ ইনান।

মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড। ছবিঃ সংগৃহীত
নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এর আগে গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিল। সংগঠনটির দাবি, ওই রায় নিয়েও দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল।
বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী হোন কিংবা সাধারণ নাগরিক, প্রত্যেকেরই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তাদের মতে, বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
বিবৃতিতে বলা হয়, আসামিদের নিজেদের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দেওয়াসহ আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। বিচারপ্রক্রিয়ায় এসব মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হলে তড়িঘড়ি করে একতরফাভাবে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট আরও বলেছে, বিচারপ্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে তা কতটা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মতভাবে পরিচালিত হচ্ছে তার ওপর। রাজনৈতিক পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনায় না নিয়ে প্রত্যেক আসামির ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করে সংগঠনটি।
এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায় বাতিল করে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম পুনরায় স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে দেশ-বিদেশে যাতে কোনো ধরনের প্রশ্ন বা সংশয় তৈরি না হয়, সে জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ন্যায়বিচারের মানদণ্ড অনুসরণ করা জরুরি। একই সঙ্গে আসামিদের আইনগত অধিকার এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au