সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু সর্বোচ্চ
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৬ দিনেই ডেঙ্গুতে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরে এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।…
অভিবাসন কমাতে অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের দেশটিতে নিয়ে আসার সুযোগ কার্যত সীমিত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। নতুন অভিবাসন ব্যবস্থার আওতায় সাময়িক ভিসার সংখ্যা কমানো, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অভিবাসীদের দেশে ফেরত পাঠানো এবং সুরক্ষা বা আশ্রয়ের আবেদন ব্যবস্থায় কড়াকড়ি আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক আগামীকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক ভাষণে সরকারের নতুন অভিবাসন নীতির বিস্তারিত তুলে ধরবেন। ‘অভিবাসন কর্মসূচি পরিচালনার কাজ: কে আসবে, কে থাকবে, কে চলে যাবে’ শিরোনামে ওই বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে নিট বিদেশি অভিবাসন বা নিট ওভারসিজ মাইগ্রেশন ৩ লাখ থেকে কমিয়ে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সাময়িক ভিসাধারীর সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিভিন্ন উপায়ে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করার প্রবণতা বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমানোর কথা বলা হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসার সুযোগ কঠোরভাবে সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যাওয়ার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
গত অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়ায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৪২৭টি শিক্ষার্থী ভিসা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৪৫ হাজার ৯৯১ জন ছিলেন শিক্ষার্থীদের নির্ভরশীল বা পরিবারের সদস্য হিসেবে আবেদনকারী। ফলে শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের আগমন কমানো হলে সামগ্রিক অভিবাসন সংখ্যা কমানোর ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
টনি বার্কের এই নীতির ঘোষণা প্রায় ছয় সপ্তাহ আগে দেওয়ার কথা ছিল। তবে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর মধ্যে অভিবাসন নীতির বিভিন্ন অগ্রাধিকার নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে সেই বক্তব্য স্থগিত করা হয়। পরে চলতি সপ্তাহে মন্ত্রিসভার ব্যয় পর্যালোচনা কমিটি সংশোধিত পরিকল্পনাটি অনুমোদন করেছে বলে জানা গেছে।
অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে সাময়িক ভিসাধারীর সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। সরকার এই সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে অবস্থান করে যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে চায়। বিশেষ করে এক ধরনের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অন্য ভিসার জন্য আবেদন করে অস্ট্রেলিয়ায় থাকার প্রবণতা, যাকে ‘ভিসা হপিং’ বলা হয়, সেটিও সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সুরক্ষা বা আশ্রয়ের আবেদন ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে সরকার। প্রতি মাসে অস্ট্রেলিয়ার ভেতর থেকে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫৮০টি সুরক্ষা আবেদন জমা পড়ছে। এসব আবেদনের বড় অংশ আসছে চীন, ভারত ও মালয়েশিয়া থেকে শিক্ষার্থী বা দর্শনার্থী ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে।
এসব আবেদনের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রত্যাখ্যাত হলেও আবেদনকারীদের প্রশাসনিক পর্যালোচনা ট্রাইব্যুনাল ও ফেডারেল আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে। আপিলের প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে চলায় আবেদনকারীরা অন্তর্বর্তীকালীন ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান ও কাজ করার সুযোগ পান। এই ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়ে সরকারের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন ভিসার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও সরকারের নজরে রয়েছে। যেসব অস্থায়ী অভিবাসীর সুরক্ষা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, তাদের কাজের অনুমতি সীমিত বা বাতিল করার বিষয়েও সরকার বিবেচনা করছে।
অভিবাসন কমাতে এরই মধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে টনি বার্কের মন্ত্রণালয়। জুলাই মাসে কর্মসংস্থানভিত্তিক ছুটির ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া ধীর করা হয়। পাশাপাশি দক্ষ কর্মীদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণেও অগ্রাধিকারের পরিবর্তন আনা হয়েছে।
মন্ত্রীর নির্দেশনা ১১৯-এর আওতায় বিদেশ থেকে দক্ষ ভিসার জন্য আবেদন করা অনেক ব্যক্তিকে এখন দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময় কয়েক দিন থেকে বেড়ে এক বছরেরও বেশি হয়েছে। তবে দক্ষ অভিবাসীদের পরিবারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
টনি বার্ক জানিয়েছেন, অভিবাসন ব্যবস্থায় পরিকল্পিত পরিবর্তনগুলো আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করাই সরকারের পছন্দ। তবে সংসদে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়া গেলে প্রশাসনিক ক্ষমতার আওতায় থাকা অন্যান্য ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হবে।
নতুন নীতির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া একদিকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ধরে রাখতে চাইছে, অন্যদিকে তাদের পরিবারের সদস্যদের আগমন সীমিত করে সামগ্রিক অভিবাসন কমানোর লক্ষ্য পূরণ করতে চাইছে। আগামীকাল টনি বার্কের বক্তব্যের পর শিক্ষার্থী, দক্ষ কর্মী ও অন্যান্য অস্থায়ী ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনার বিস্তারিত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au