সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু সর্বোচ্চ
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৬ দিনেই ডেঙ্গুতে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরে এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।…
ইউক্রেনের মিত্র হিসেবে বিবেচিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে থাকা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই জানিয়েছে, এ ধরনের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা এখনো পলাতক রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে প্রকাশ করা অভিযোগপত্রে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানায়, রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্ক যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে থাকা ব্যক্তিদের অর্থের বিনিময়ে সম্ভাব্য হত্যার লক্ষ্যবস্তুদের ওপর নজরদারি চালানোর জন্য নিয়োগের চেষ্টা করেছে। পরে এসব ব্যক্তিকে হত্যার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ওই নেটওয়ার্কের সহযোগীদের ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বেসামরিক ও সামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালানোর জন্যও নিয়োগের চেষ্টা করা হয়েছিল। এসব দেশকে ইউক্রেনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
নিউইয়র্কের এফবিআই কার্যালয়ের প্রধান জেমস বার্নাকল জুনিয়র বলেন, সংস্থার ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় এসব পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। তার অভিযোগ, রুশ গোয়েন্দা সংস্থা ও তাদের সহযোগীরা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মানুষকে ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া এবং হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত।
ওয়াশিংটন ডিসির এফবিআই কার্যালয়ের প্রধান ড্যারেন কক্স জানান, এফবিআইয়ের একাধিক কার্যালয়, বিভিন্ন ইউনিট এবং সহযোগী সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাশিয়ার কথিত সহিংস কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা প্রতিহত করা হয়েছে।
এফবিআইয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, হুমকির বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর ওয়াশিংটন কার্যালয় ও তাদের সহযোগীরা দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। পাশাপাশি রুশ সরকারের কর্মকাণ্ডের জন্য সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, রুশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই নেটওয়ার্ক ২০২৪ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে হামলা ও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে আসছে। কিছু ক্ষেত্রে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে এফবিআই। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও নেটওয়ার্কটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এফবিআই আরও জানিয়েছে, আগে এই নেটওয়ার্কের প্রধান লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার ভিন্নমতাবলম্বী ও দেশত্যাগী ব্যক্তিরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোর নাগরিক ও স্বার্থের দিকে তাদের নজর গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেও কয়েকজনকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে নিয়োগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এক ব্যক্তিকে একজন বিশিষ্ট রুশ ভিন্নমতাবলম্বীর ওপর নজরদারি এবং তাকে হত্যার জন্য নিয়োগের চেষ্টা করা হয়। পরিচয় গোপন রাখতে অভিযোগপত্রে ওই ব্যক্তিকে ‘ইউএস রেসিডেন্ট-১’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি স্থানে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে কীভাবে নজরদারি চালাতে হবে, সে বিষয়ে তাকে বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হয়। এ কাজের জন্য প্রথমে ১ হাজার এবং পরে আরও ১ হাজার ৫০০ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
নজরদারির পর ওই ব্যক্তি লক্ষ্যবস্তুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানের ছবি ও ভিডিও অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির কাছে পাঠান। পরে তাকে ওই ব্যক্তিকে হত্যা অথবা ‘নিখোঁজ করে দেওয়ার’ বিনিময়ে ৪০ হাজার ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর রুশ গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে আরও কয়েকজনকে ওই হত্যাকাণ্ডে নিয়োগের চেষ্টা করেন এবং এজন্য বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষের উত্থাপিত এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অভিযুক্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর বিচার হবে এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই তাদের দায় নির্ধারিত হবে।
সুত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au