আরব সাগরে ভারত-পাক নৌজাহাজের সংঘর্ষ, পাক কূটনীতিককে তলব নয়াদিল্লির
উত্তর আরব সাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় টহল দেওয়ার সময় ভারতীয় নৌসেনার একটি জাহাজের সঙ্গে পাকিস্তানি নৌসেনার একটি টহল জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দিল্লিতে নিযুক্ত…
নয়াদিল্লিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুটি পৃথক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে ভারত। এর মধ্যে একটি ছিল দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য এবং অন্যটি বঙ্গোপসাগরীয় বহু-খাতভিত্তিক প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগের (বিমসটেক) বর্তমান সভাপতি হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য।
মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি স্পষ্ট করেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
সদ্য অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কি না, তা নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশকে দুটি পৃথক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। পরবর্তীতে তিনি বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনেও আমন্ত্রিত হন। ফলে তিনি দুটি পৃথক আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য এবং অন্যটি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের জন্য।’
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগের এক ব্রিফিংয়েও বলা হয়েছিল, বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশকে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের ‘আউটরিচ’ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে এই শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জোট ও সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
তবে ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। এ নিয়ে দুই দেশের বক্তব্যের মধ্যে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্যে তার ব্যাখ্যা পাওয়া গেল।
এর আগে গত সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছিলেন, তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্যে বলা হয়েছে, বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণের পাশাপাশি তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যও আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি।
ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণটি এখনো বহাল রয়েছে। দেশটি গত ফেব্রুয়ারি মাসেই তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য পৃথকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।
ফলে ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের আমন্ত্রণের বিষয়টি নিয়ে যে বিতর্ক বা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, ভারতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী সেখানে দুটি পৃথক আমন্ত্রণের বিষয় রয়েছে। একটি ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য এবং অন্যটি ছিল বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য।
ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে বিমসটেকের সভাপতিত্বকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি মূলত আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সরাসরি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাব্যতা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ভারত সফর হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রত্যাশা রয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মঙ্গলবারের বক্তব্যের মাধ্যমে অন্তত এটুকু স্পষ্ট হয়েছে যে, তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য দিল্লির আমন্ত্রণ আলাদাভাবে দেওয়া হয়েছিল এবং সেই আমন্ত্রণ এখনো বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশকেও পৃথকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au