আরব সাগরে ভারত-পাক নৌজাহাজের সংঘর্ষ, পাক কূটনীতিককে তলব নয়াদিল্লির
উত্তর আরব সাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় টহল দেওয়ার সময় ভারতীয় নৌসেনার একটি জাহাজের সঙ্গে পাকিস্তানি নৌসেনার একটি টহল জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দিল্লিতে নিযুক্ত…
ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে টাকার বিনিময়ে তাস খেলে জুয়া খেলার অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের অভিযানে ধাওয়া ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার ডান হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হলপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পরে মঙ্গলবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা হলে গ্রেপ্তার চার পুলিশ সদস্যকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। একই ঘটনায় আরও দুই পুলিশ সদস্য পালিয়ে গেছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার গভীর রাতে ঠাকুরগাঁও সদর থানার একটি টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মূল ভবনের উত্তর পাশে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাসের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলছেন।
খবর পাওয়ার পর রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আলমগীর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই টিনশেড ঘরে যায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়ার আসরে থাকা ব্যক্তিরা সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল রানার ডান হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়। এতে তিনি আহত হন।
পরে পুলিশ ধাওয়া করে ঘটনাস্থল থেকে চার পুলিশ সদস্যকে আটক করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত কনস্টেবল মো. সোহেল রানা (৩৩), এএসআই শান্তি কুমার রায় (৩৭), কনস্টেবল মো. আলমগীর কবির (৩৩) এবং ঠাকুরগাঁও শহর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই মো. শাহাদত জামান (৩৯)।
অভিযানের সময় সুযোগ বুঝে আরও দুই পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তারা হলেন পঞ্চগড় জেলা পুলিশের এটিএসআই মো. আতাউর রহমান (৪০) এবং পিবিআই ঠাকুরগাঁওয়ের কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮)। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের সময় ঘটনাস্থল এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে জুয়ার আসরে ব্যবহৃত সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নগদ ৫০ টাকা, পাঁচ সেট তাস এবং একাধিক স্মার্টফোন। এ ছাড়া ঘটনাস্থলের পাশ থেকে চারটি মোটরসাইকেল পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. লিখন হোসেন বাদী হয়ে থানায় এজাহার দায়ের করেন। এর ভিত্তিতে মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা করা হয়। মামলাটি ২০২৬ সালের জুয়া প্রতিরোধ আইনের ১৫ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩২৩ ও ৩২৫ ধারায় করা হয়েছে।
মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে ঠাকুরগাঁও সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুজিত কুমার পালকে।
তদন্ত কর্মকর্তা সুজিত কুমার পাল বলেন, আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ কিংবা অন্য যে কারও ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার চার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের কর্মকর্তারাই যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকেন, সেখানে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের ভেতরের একটি পরিত্যক্ত স্থাপনায় পুলিশ সদস্যদের জুয়া খেলার অভিযোগ এবং অভিযান চালানোর সময় একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের আহত হওয়ার ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মামলার তদন্তে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং জুয়া খেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au