আরব সাগরে ভারত-পাক নৌজাহাজের সংঘর্ষ, পাক কূটনীতিককে তলব নয়াদিল্লির
উত্তর আরব সাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় টহল দেওয়ার সময় ভারতীয় নৌসেনার একটি জাহাজের সঙ্গে পাকিস্তানি নৌসেনার একটি টহল জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দিল্লিতে নিযুক্ত…
সড়কের পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বাঁধা দুই হাত। পিঠের ওপর রাখা হয়েছে ছয় থেকে সাতটি ইট। ইটের ভারে কাত হয়ে থাকা যুবককে ঘিরে কয়েকজনের মারধর। কেউ চুল ধরে টানছেন, কেউ মুখে ঘুষি মারছেন। নির্যাতনের একপর্যায়ে তাঁর মুখ দিয়ে ফেনা বের হলেও থামেনি পিটুনি। এভাবে প্রকাশ্যে নির্যাতনের পর মৃত্যু হয়েছে ওই যুবকের।
ঘটনাটি দেখছিলেন আশপাশের ১৫ থেকে ২০ জন মানুষ। তাঁদের কেউ তাঁকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফকিরাঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। চোর সন্দেহে মো. ফয়সাল (২৬) নামের এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে দলবদ্ধভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ফয়সাল ওই এলাকার বাদশাহ মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলোতে ফয়সালকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় একাধিক ব্যক্তিকে মারধর করতে দেখা যায়। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোহাম্মদ রিফাত নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোররাতে পূর্ব ফকিরাঘোনা এলাকার বাসিন্দা কেফায়ত উল্লাহর বাড়িতে ফয়সালকে চোর সন্দেহে আটক করা হয়। পরে সকালে তাঁকে বাড়ির বাইরে সড়কের পাশে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর শুরু করা হয়।
এ সময় আশপাশের আরও কয়েকজন সেখানে জড়ো হন এবং তাঁরাও ফয়সালকে মারধর করেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। একপর্যায়ে ফয়সালের পিঠের ওপর ছয় থেকে সাতটি ইট তুলে দেওয়া হয়। ইটের ভারে তিনি কাত হয়ে পড়লেও তাঁকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় একপর্যায়ে তাঁর মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে দেখা যায়। এরপরও নির্যাতন চলতে থাকে বলে অভিযোগ।
সকাল নয়টার দিকে স্থানীয় লোকজন ফয়সালকে উদ্ধার করে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলী আকবর বলেন, ভোররাতে চুরি করতে গিয়ে ফয়সাল ধরা পড়েছিলেন বলে তিনি শুনেছেন। পরে গণপিটুনিতে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে চুরির অভিযোগ থাকলেও এভাবে কাউকে নির্যাতন করে হত্যা করা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে ফয়সালের বাবা বাদশাহ মিয়া বলেন, তাঁর ছেলে দিনমজুরের কাজ করতেন। কোনো কারণ ছাড়াই তাঁকে চোর সন্দেহে প্রকাশ্যে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে পুলিশ মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফয়সালের মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে দুপুরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ সময় হাসপাতাল থেকেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মোহাম্মদ রিফাতকে আটক করা হয়। পুলিশ বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোও তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সুলতান বলেন, চোর সন্দেহে আটক এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদেরও শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ওসি আরও বলেন, ফয়সালকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। ভিডিও দেখে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে।
চুরির অভিযোগ সত্য হলেও কোনো ব্যক্তিকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে প্রকাশ্যে নির্যাতন বা হত্যা করার সুযোগ নেই। ফয়সালের মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত ছিলেন, কী কারণে তাঁকে আটক করা হয়েছিল এবং তাঁর ওপর কতক্ষণ ধরে নির্যাতন চালানো হয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে সেসব বিষয়ই এখন বেরিয়ে আসবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au