আরব সাগরে ভারত-পাক নৌজাহাজের সংঘর্ষ, পাক কূটনীতিককে তলব নয়াদিল্লির
উত্তর আরব সাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় টহল দেওয়ার সময় ভারতীয় নৌসেনার একটি জাহাজের সঙ্গে পাকিস্তানি নৌসেনার একটি টহল জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দিল্লিতে নিযুক্ত…
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা ও বিতর্কের পর এবার এর দায় নিজের বলে স্বীকার করেছেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত কোনো সম্মিলিত আলোচনা বা পরামর্শের ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে সিদ্ধান্তটি তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এককভাবে নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর রাতে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে আসিফ নজরুলও জানান, ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত মূলত তিনিই নিয়েছিলেন। তিনি লেখেন, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে এই সিদ্ধান্ত তারই ছিল এবং বিষয়টি তিনি এর আগেও একাধিকবার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন।
আসিফ নজরুল প্রশ্ন তোলেন, এতদিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কেন এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করল। তার ভাষ্য, বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি আগে থেকেই নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছিলেন।
আসিফ নজরুলের দাবি, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতির সূত্রপাত। এরপর বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয় এবং ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার বিষয়ে অনীহা তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) একটি প্রতিবেদনে ভারতে নিরাপত্তা নিয়ে তিনটি আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এর মধ্যে বিশ্বকাপ দলে মুস্তাফিজুর রহমানের থাকা, বাংলাদেশের সমর্থকদের ভারতে অবাধে চলাচল এবং বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে পরিস্থিতির বিষয়গুলো ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আসিফ নজরুলের ভাষ্য, বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত অন্য কোনো ভেন্যুতে বিশ্বকাপ খেলার জন্য চেষ্টা করেছিল এবং কয়েকটি দেশ থেকেও সমর্থন পেয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। পাশাপাশি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে দেশের মর্যাদা, ক্রিকেটার, সাংবাদিক ও সমর্থকদের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনের আগে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।
বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে আসিফ নজরুলের বর্তমান বক্তব্যের সঙ্গে তার আগের বক্তব্যের পার্থক্য নিয়েই মূলত নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রীয় মাঠ উন্নয়নে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দুই কোটি টাকা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আসিফ নজরুল বলেছিলেন, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিসিবি ও বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
সেদিন তিনি বলেছিলেন, বিশ্বকাপ খেলতে না পারা নিয়ে কোনো অনুশোচনা বা প্রশ্নের সুযোগ নেই। তার দাবি ছিল, দেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের মর্যাদার বিষয় বিবেচনা করেই খেলোয়াড় ও ক্রিকেট বোর্ড আত্মত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
এর আগে গত ২২ জানুয়ারিও আসিফ নজরুল জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকারই ক্রিকেটারদের ভারতে পাঠাচ্ছে না। পরবর্তী সময়ে তার বক্তব্যে পরিবর্তন আসায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়।
বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তের দায় বিসিবি ও ক্রিকেটারদের ওপর দেওয়ার পর বাংলাদেশের কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনও আসিফ নজরুলের বক্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন।
মিরপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেছিলেন, আসিফ নজরুলের এমন বক্তব্যে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তার ভাষ্য, একজন শিক্ষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আসিফ নজরুলের কাছ থেকে এমন বক্তব্য তিনি আশা করেননি।
বিশ্বকাপ নিয়ে আসিফ নজরুলের আগের ও পরের বক্তব্যের মধ্যে যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে, সেটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। তার বক্তব্যে বিষয়টিকে তিনি নিজের এবং ক্রিকেটারদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি হিসেবে তুলে ধরেন।
এদিকে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সিদ্ধান্তটি এককভাবে নেওয়ার কথা উল্লেখ হওয়ার পর আসিফ নজরুল নিজেও সিদ্ধান্তের দায় নিজের বলে স্বীকার করেছেন। ফলে বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আগের বক্তব্য ও বর্তমান অবস্থানের পার্থক্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au