আরব সাগরে ভারত-পাক নৌজাহাজের সংঘর্ষ, পাক কূটনীতিককে তলব নয়াদিল্লির
উত্তর আরব সাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় টহল দেওয়ার সময় ভারতীয় নৌসেনার একটি জাহাজের সঙ্গে পাকিস্তানি নৌসেনার একটি টহল জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দিল্লিতে নিযুক্ত…
২০২৫ সালে বাংলাদেশে বিদেশি দর্শনার্থীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। মূলত ভারত থেকে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যা বড় ধরনের কমে যাওয়ায় মোট বিদেশি আগমনে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে একই সময়ে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, চীন ও জাপানসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসবাজার থেকে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশেষ শাখা পুলিশের প্রস্তুত করা তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৫ সালে বাংলাদেশে মোট ৫ লাখ ৮৫ হাজার ১৪৫ জন বিদেশি দর্শনার্থী এসেছেন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪ জন। এর আগে ২০২৩ সালে বাংলাদেশে বিদেশি দর্শনার্থী এসেছিলেন ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৪৫১ জন।
বিদেশি দর্শনার্থী আগমনের ক্ষেত্রে ভারত এখনও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উৎসবাজার। তবে ২০২৫ সালে দেশটি থেকে আসা দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
২০২৫ সালে ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছেন ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬০৯ জন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬৩ হাজার ২৮৫ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ভারতীয় দর্শনার্থী কমেছে ২৬ দশমিক ১ শতাংশ।
২০২৩ সালের তুলনায় এই সংখ্যা আরও কম। ওই বছর ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন ২ লাখ ৯৪ হাজার ৬৬৮ জন। ফলে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতীয় দর্শনার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৪ শতাংশ কমেছে।
ভারতীয় দর্শনার্থীর এই কমে যাওয়ার প্রভাব মোট বিদেশি আগমনের হিসাবেও স্পষ্ট। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে আসা মোট বিদেশি দর্শনার্থীর ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ ছিলেন ভারতীয়। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ৪৫ শতাংশ।
পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে উভয় দেশের ভিসা কার্যক্রমে পরিবর্তন এসেছে। ভিসা দেওয়ার সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে আগমনও কমেছে বলে তারা মনে করছেন।
ভারতীয় দর্শনার্থীর সংখ্যা কমলেও বাংলাদেশের অন্যান্য প্রধান উৎসবাজারে কিছুটা প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
২০২৫ সালে যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে এসেছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ২৮৮ জন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮ হাজার ২৪ জন। অর্থাৎ যুক্তরাজ্য থেকে দর্শনার্থী আগমন বেড়েছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০২৫ সালে এসেছেন ১ লাখ ৮ হাজার ১৮২ জন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৯৮৭ জন। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগমন বেড়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ।
কানাডা থেকেও দর্শনার্থী আগমন বেড়েছে। ২০২৫ সালে দেশটি থেকে বাংলাদেশে এসেছেন ৩৩ হাজার ৯৪ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।
অস্ট্রেলিয়া থেকে ২০২৫ সালে বাংলাদেশে এসেছেন ৩১ হাজার ১৮২ জন। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা বেড়েছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ।
ইতালি থেকেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটি থেকে ২১ হাজার ৯৫২ জন বাংলাদেশে এসেছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১২ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।
শীর্ষ ১০ উৎসবাজারের মধ্যে ২০২৫ সালে চীন থেকে দর্শনার্থী আগমনে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
২০২৪ সালে চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন ৪ হাজার ৭১৫ জন। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮০৮ জনে। অর্থাৎ এক বছরে চীনা দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
জাপান থেকেও দর্শনার্থী আগমন বেড়েছে ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২৫ সালে দেশটি থেকে বাংলাদেশে এসেছেন ৬ হাজার ৪৭২ জন।
জার্মানি থেকে ২০২৪ সালে ৫ হাজার ৪৪১ জন দর্শনার্থী বাংলাদেশে এলেও ২০২৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৭৪০ জন।
সুইডেন থেকেও দর্শনার্থী বেড়েছে। ২০২৫ সালে দেশটি থেকে বাংলাদেশে এসেছেন ৪ হাজার ৭৫৪ জন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৪২৬ জন।
পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের বিদেশি দর্শনার্থীর উৎসবাজারে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে। দীর্ঘদিন ধরে ভারত বাংলাদেশের বিদেশি দর্শনার্থীর সবচেয়ে বড় উৎস হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দেশটি থেকে আগমন কমেছে। বিপরীতে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি এবং কয়েকটি পূর্ব এশীয় দেশ থেকে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে।
তবে সরকারি হিসাবে বিদেশি দর্শনার্থী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত সবাই প্রচলিত অর্থে পর্যটক নন। বিদেশি পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিরা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে এলে তারাও এই হিসাবের মধ্যে পড়েন। একইভাবে ব্যবসায়িক কাজে আসা ব্যক্তি এবং সভা, সম্মেলন, প্রদর্শনী ও বিভিন্ন করপোরেট অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা ব্যক্তিরাও বিদেশি আগমন হিসেবে গণনা হন।
এই পার্থক্য পর্যটন খাতের প্রকৃত চিত্র বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অবকাশযাপনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসা পর্যটকরা সাধারণত হোটেল, পরিবহন, রেস্তোরাঁ, ট্যুর গাইড এবং বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে বেশি অর্থ ব্যয় করেন।
অন্যদিকে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে আসা বা ব্যবসায়িক কাজে বাংলাদেশে আসা বিদেশি দর্শনার্থীদের ব্যয়ের ধরন ভিন্ন হতে পারে। ফলে বিদেশি দর্শনার্থীর মোট সংখ্যা বাড়লেও তা সবসময় পর্যটন খাতে একই মাত্রার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তৈরি করে না।
এ কারণে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের পরিস্থিতি মূল্যায়নে শুধু বিদেশি দর্শনার্থীর সংখ্যা নয়, তারা কী উদ্দেশ্যে দেশে আসছেন, কতদিন অবস্থান করছেন এবং দেশে অবস্থানকালে কত অর্থ ব্যয় করছেন, সেসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au