আরব সাগরে ভারত-পাক নৌজাহাজের সংঘর্ষ, পাক কূটনীতিককে তলব নয়াদিল্লির
উত্তর আরব সাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় টহল দেওয়ার সময় ভারতীয় নৌসেনার একটি জাহাজের সঙ্গে পাকিস্তানি নৌসেনার একটি টহল জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দিল্লিতে নিযুক্ত…
সাতক্ষীরার চৌরঙ্গী মোড়ে অবস্থিত বেসরকারি ব্লিস হাসপাতালে ৪২ দিনের ব্যবধানে আবারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখার স্থান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আগুনের চেয়ে ধোঁয়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে বেশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় থাকা রোগী ও স্বজনরা দ্রুত নিচে নেমে আসতে শুরু করেন। নার্সরা রোগীদের দ্রুত হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় অসুস্থ রোগীদের স্বজনরা কেউ ধরে, কেউ কোলে করে আবার কেউ কয়েকজন মিলে ধরে নিচে নামিয়ে আনেন।
অনেক রোগীকে পরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কেউ রাস্তার পাশে ভ্যানের ওপর আশ্রয় নেন, আবার কেউ অসুস্থ অবস্থায় হেঁটে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন।
এক রোগীর স্বজন মতিয়ার রহমান বলেন, রাতে রোগীকে ওষুধ খাওয়ানোর পর তারা হাসপাতালে বসে ছিলেন। হঠাৎ একজন নার্স এসে দ্রুত বের হয়ে যেতে বলেন। ছয়তলায় সমস্যা হয়েছে জানিয়ে মোবাইল সঙ্গে নিয়ে দ্রুত নিচে নামতে বলা হয়। পরে নিচে এসে তারা চারদিকে শুধু ধোঁয়া দেখতে পান।
আরেক রোগীর স্বজন জানান, আগের দিনই হাসপাতালে এক নারীর অস্ত্রোপচার করে সন্তান প্রসব করানো হয়েছিল। রাতে হঠাৎ আগুনের খবর পেয়ে নার্সরা সবাইকে দ্রুত নিচে নেমে যেতে বলেন। কয়েকজন মিলে ওই রোগীকে নিচে নামিয়ে পরে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালের পাশের বাসিন্দা ইদ্রিস আলী ময়না জানান, রাত ১১টার দিকে তিনি বাড়ির সামনে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছিলেন। হঠাৎ একটি শব্দ শুনে হাসপাতালের দিকে তাকিয়ে নিচের দিকে ধোঁয়া দেখতে পান। একই হাসপাতালে কিছুদিনের ব্যবধানে আবারও আগুন লাগায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর নুরুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তারা দেখতে পান, আগে যেখানে অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখা হতো, সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এর আগের অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতও একই জায়গায় হয়েছিল বলে জানান তিনি।
নুরুল ইসলাম বলেন, প্রথমে হাসপাতালের নিচের অংশ ধোঁয়ায় ভরে ছিল। পরে ভেতরে গিয়ে আগুনের অবস্থান শনাক্ত করে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ধোঁয়ার কারণে রোগী ও স্বজনরা আতঙ্কিত হয়ে তাড়াহুড়া করে নিচে নামতে থাকেন। এতে হুড়োহুড়িতে আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় তাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
একই হাসপাতালে একই স্থানে বারবার আগুন লাগার বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালটি বড় এবং প্রতিটি তলায় অক্সিজেনের লাইন রয়েছে। ভবনের নিচে থাকা সিলিন্ডার থেকে পুরো অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তার ধারণা, কারিগরি ত্রুটির কারণে অক্সিজেনের চাপ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়ে পাইপ ফেটে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে আগুনের খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এর আগে গত ৪ আগস্ট একই হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট কাজ করেছিল।
মাত্র ৪২ দিনের ব্যবধানে একই হাসপাতালের একই স্থানে ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রোগী, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বারবার একই জায়গায় আগুন লাগার কারণ, হাসপাতালের অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au