উজ্জ্বল রাত কি এডিস মশার কামড়ানোর সময় বাড়িয়ে দিচ্ছে?
বাংলাদেশের শহরগুলোতে সূর্য ডোবার পরও বাড়ছে কৃত্রিম আলোর ব্যবহার। আর এর মধ্যেই ডেঙ্গুর জীবাণু ছড়ানো এডিস মশার আচরণ নিয়ে নতুন করে ভাবছেন গবেষকরা। দিনের মশা…
ভারতবর্ষের মুসলমানদের কেন নিজেদের জন্য আলাদা দেশ প্রয়োজন হয়ে উঠলো? মোটামুটি তিনশো বছর ভারত ‘মুসলিম শাসনে’ ছিল। এই সময়ে ভারতবর্ষের রাষ্ট্র ভাষা আরবী ফারসি ছিল। রাজা রামমোহন রায় ভালো ফারসি জানতেন। তখনকার হিন্দুরা শাসকদের সঙ্গে কাজ করতে এই ভাষায় দক্ষ হয়ে উঠত। ইংরেজরা পলাশী যুদ্ধে জয় লাভ করার পরই ক্ষমতায় বসে গিয়েছিল একদমই ভুল ধারণা। মীর জাফর খান ও তার জামাতাদের সঙ্গে পরে ইংরেজদের সম্পর্ক খারাপ পর্যন্ত হয়ে যায়। ইংরেজরা ক্ষমতা নিয়ে নেয় আরো পরে।
ইংরেজ শাসনে রাজ দরবারের ভাষা ফারসিই থেকে গিয়েছিল। কারণ ইংরেজি জানা দেশীয় লোকজন তখনো তৈরি হয়নি। ফলে ইংরেজদের প্রথম যুগে সরকারী চাকরিতে মুসলমানদের অংশগ্রহণ ছিল হিন্দুদের চেয়ে বেশি। ইংরেজদের গুছিয়ে নেয়ার আগ পর্যন্ত ডেপুটি মেজিস্ট্রেট পদগুলোতে মুসলমানরাই ছিল সংখ্যায় বেশি। পরে মুসলমানরা ইংরেজি শেখেনি কারণ ইংরেজি শিখলে খ্রিস্টান হয়ে যাবে। ঈমান হারা হবার ভয়েই মুসলমানরা ইংরেজি শিখেনি। এর ফলে কয়েক প্রজন্ম পরেই ইংরেজ দপ্তরে ইংরেজ ভাষা একমাত্র ভাষা হয়ে উঠলে মুসলমানরা চাকরিতে পিছিয়ে পড়ে।
আবার ইংরেজ আমলে হিন্দু জমিদাররা প্রচুর পরিমাণে গ্রাম গঞ্জে স্কুল খুলেছিল নিজেদের বাপ মায়ের নামে। এসব স্কুলে পড়তে কোন পয়সা লাগতো না। এইসব স্কুল থেকে পড়েই শেরে বাংলা ফজলুল হকদের জেনারেশন বেরিয়ে আসছিল। ফজলুল হকের রাজনৈতিক হাতেখড়ি হয়েছিল অশ্বিনী কুমার দত্তের হাতে। বরিশাল পৌরসভা ও বাকেরগঞ্জ জেলা বোর্ডে অশ্বিনী কুমারের নিজের লোক হিসেবে ফজলুল হক নির্বাচনে দাঁড়ান। পরে ১৯১৩ সালে বঙ্গীয় আইন পরিষদে ফজলুল হক হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় অশ্বিনী কুমারের প্রভাবে রায় বাহাদুর মহেন্দ্রনাথ মিত্রকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়। হিন্দুরা ফজলুল হককে ভোট না দিলে কোনদিনই আইন পরিষদের সদস্য (এমপি) হতে পারতেন না। সেই ফজলুল হক ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাব দিলেন কারণ হিন্দুদের সঙ্গে থাকলে মুসলমানদের কোনদিন উন্নতি হবে না!
বর্তমান ইউরোপের দেশগুলিতে অভিবাসী মুসলমানদের উপর স্থানীয়দের যে ঘৃণা ও ক্ষোভ দেখতে পান তার কারণ কি? মুসলমানরা তো খুব প্রতিভাবান যোগ্য তা তো নয়। তাহলে মুসলিম ভীতির কারণ কি? ভারতবর্ষে দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সম্প্রদায় যদি না থাকতো তাহলে কি মনে করেন ভারতবর্ষ কোনদিন ভাগ হতো? বাংলা ভাগ হতো?
উত্তর হচ্ছে না। আপনি যদি খেয়াল করেন তাহলে বুঝবেন এখানে কোন লেবেলের সাম্প্রদায়িকতা আজো চর্চা চলে। যেমন বলা হয়, পাকিস্তান না হলে মুসলমানদের আজো হিন্দুস্থানে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে বাঁচতে হতো!
অথচ অবিভক্ত বাংলা প্রথম প্রধানমন্ত্রী হয়েছিল মুসলমান! কোলকাতার মেয়র মুসলমান! ভারত স্বাধীন হলো তারা বানালো ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র আর পাকিস্তান হলো মুসলিম রাষ্ট্র। ভারতে রেখে আসা মুসলমানদের এরা বলতে চাইছে তারা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক? এটা উশকানি। ভারতে আরো মুসলিম রাষ্ট্র তারা চায়। কারণ তারা লাহোর প্রস্তাবে একাধিক মুসলিম রাজ্য চেয়েছিল। তাদের এই গোপন এজেন্ডায় জড়িত আছে চিঙ্কু বামেরা। কারণ বামেরা জানে ভারতে কিয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও কোন কমিউনিস্ট রাষ্ট্র কায়েম করা যাবে না ভাঙা ছাড়া। ফলে মুসলিম লীগের লাহোর প্রস্তাব যদি আবার বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে চিকনে যদি তাদের পাতে এক টুকরো রুটি পরে আর কী!
এসব কথা আমি বছরের পর বছর বলে আসছি। একদম রেফারেন্স দিয়ে দিয়ে। সেসব লেখা কেউ সংরক্ষণে রাখেনি? এই যে আমাকে এসব নিয়ে লিখতে বলছেন, আমার পুরোনো লেখাগুলোই তো শেয়ার করতে পারেন! হ্যাঁ, আমি লিখে যাবোই। অসত্যের বিরুদ্ধে এটা আমার একলা লড়াই।
-সুষুপ্ত পাঠক ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au