ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা, ‘উভয় দেশের স্বার্থ নিশ্চিত করাই লক্ষ্য’
ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে করা ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ সরকার। এসব চুক্তিতে কোনো অসামঞ্জস্য বা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কোনো বিধান রয়েছে কি…
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জে কুশিয়ারা নদীতে অনুষ্ঠেয় নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ‘তৌহিদী জনতা’। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর মীরগঞ্জ বাজারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। স্থানীয় কয়েকটি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও এতে অংশ নেন। তবে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি নাকচ করে পূর্বনির্ধারিত আয়োজন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ।
স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মীরগঞ্জের কুশিয়ারা নদীতে নৌকাবাইচ আয়োজনের কথা রয়েছে। এর এক দিন আগে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে মীরগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে ‘তৌহিদী জনতা’। পরে বাজারে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মাওলানা আব্বাস আল মাহমুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন আল ইহসান পরিষদের সভাপতি মাওলানা হিফজুর রহমান, আলহেরা একাডেমির সভাপতি সয়েফ উদ্দিন, জামিয়া ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা জাকারিয়া, মাওলানা আবু সুফিয়ান, হাফিজ জয়নুল আবেদীন, এমরান আহমদ ও শাকিল আহমদ।
সমাবেশে বক্তারা কুশিয়ারা নদীতে নৌকাবাইচ আয়োজন বন্ধের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, নৌকাবাইচের কারণে নদীর তীরে ভাঙন দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি এ ধরনের আয়োজনকে কেন্দ্র করে অশ্লীল গান-বাজনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানান তারা। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন বক্তারা।
তবে নৌকাবাইচ আয়োজনে আপত্তি নিয়ে ভিন্ন অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। ভাদেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হেলাল আহমদ জানান, শনিবার বিকেলে নৌকাবাইচ আয়োজনের বিষয়টি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন স্থানীয় মাদ্রাসা বা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি জানানো হয়নি। পরে হঠাৎ করে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে মিছিল ও প্রতিবাদ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনও নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি গ্রহণ করেনি। গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, নৌকাবাইচ বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই এটি বন্ধ করার সুযোগ নেই। তবে আয়োজনকে কেন্দ্র করে জুয়া, মাদক, অশ্লীল কর্মকাণ্ড বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।
ইউএনও জানান, নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবেদ আলীও জানিয়েছেন, নৌকাবাইচ দেশীয় ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির অংশ। তাই নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি মেনে নেওয়া হবে না। তবে আয়োজনের আড়ালে জুয়া, অশ্লীল কর্মকাণ্ড বা অন্য কোনো অনৈতিক কার্যক্রমের সুযোগ দেওয়া হবে না। এসব বিষয়ে পুলিশ ও প্রশাসন নজর রাখবে।
স্থানীয় নৌকাবাইচ আয়োজকদের একজনও দাবি করেছেন, এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং গ্রামবাংলার দীর্ঘদিনের লোকজ সংস্কৃতি ও মানুষের মিলনমেলার অংশ। হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করাই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে তিনি জানান।
এদিকে, সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ নিয়েও সম্প্রতি একই ধরনের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। ‘তৌহিদী জনতা’ সেখানে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। শেষ পর্যন্ত ২৮ আগস্ট পূর্বনির্ধারিত সময়ে সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। নদীর দুই পাড়ে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হয় এবং উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিযোগিতা শেষ হয়।
বিয়ানীবাজারের ঘটনার পর এবার গোলাপগঞ্জের কুশিয়ারা নদীতে নৌকাবাইচ নিয়ে একই ধরনের আপত্তি ওঠায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নৌকাবাইচ বন্ধ করা হবে না। একই সঙ্গে আয়োজনকে ঘিরে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au