পটুয়াখালীতে হিন্দু ব্যবসায়ীকে ‘জ্যান্ত পুড়িয়ে’ মারার হুমকি বিএনপি নেতার
পটুয়াখালীর বাউফলে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল নামে এক ব্যবসায়ীকে ‘জ্যান্ত পুড়িয়ে’ হত্যার হুমকি দেওয়ার…
এখন প্রশ্ন হলো, এই আসল বাপটি “আসল” কিনা সেটা যাঁরা “”আসল” বাপ সামনে নিয়ে আসছেন তাঁরাই জানেন কিনা আমার সন্দেহ আছে। এই সন্দেহটাই আজকের লেখার ভিত্তি। এই প্রেক্ষিতেই বলা যায়, হুমায়ুন আহমেদের “অয়োময়” নাটকের একটি চরিত্রের মুখে বলানো “ভগমানের লীলা বোঝা বড় ভার” ডায়ালগটি আমাকে বড়ই ভাবাচ্ছে। এই যে বাপ সংক্রান্ত ঝামেলা এইটি “ভগমানের লীলা” না হয়েই যায়না; তো এই লীলাটি বোঝার জন্য কিছু প্রশ্ন মনে জেগেছে। এগুলোর উত্তর চাই তাঁদের কাছে যাঁরা আমাদের জন্য নতুন বাপ আমদানীতে ব্যস্ত।
বাংলাদেশে একটি সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু আর্কাইভে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ’র ছবি প্রদর্শন, সেই ছবি ছিঁড়ে ফেলা এবং পাল্টা প্রতিবাদ ঘিরে একটি পুরোনো প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে: স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে জিন্নাহ র অবস্থান কোথায়? জিন্নাহ নিঃসন্দেহে উপমহাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তাঁকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে না। কিন্তু ইতিহাসে কাউকে অধ্যয়ন করা এবং তাঁকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পূর্বপুরুষ হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এক বিষয় নয়। জিন্নাহ পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশের নন। তিনি ১৯৪৮ সালে মারা যান। ফলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর চিন্তাকে বাঙ্গালীর মুক্তির বিপরীত আদর্শ হিসেবেই চিত্রিত করা হয়, কারন জিন্নাহ চেয়েছিলেন মুসলমানদের জন্য আলাদা ভূমি, আর আমরা সেটিকে ভেঙ্গেই বেরিয়ে এসেছিলাম। তা হলে জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে হঠাৎ তাঁকে রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত করার চেষ্টা কেন?
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের “প্রকাশিত” উদ্দেশ্যগুলো ছিলো, বৈষম্য, দমন, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা ও কর্তৃত্ববাদী শাসনকে হঠানো। আন্দোলনকারীরা জিন্নাহ র ছবি নিয়ে রাস্তায় নামেনি; বরং তারা বঙ্গবন্ধুর ছবি নিয়ে ন্যায়বিচার, নাগরিক মর্যাদা ও রাজনৈতিক অধিকারের দাবি নিয়ে নেমেছিল। জুলাইকে জিন্নাহ র উত্তরাধিকার হিসেবে দেখানোর তাই কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই, যদিও এটি আমাদের স্বাধীনতাবিরোধীদের একটি গুপ্ত অবস্থানের ফলাফল হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু এখন এই আন্দোলনের মাধ্যমে পুরোনো হিন্দু-মুসলিম কিংবা ভারত-পাকিস্তান বিরোধের ছাঁচে বন্দী করার চেষ্টা দেখা যায়; এরই ফলাফল এই জিন্নাহ’কে বাংলাদেশের ইতিহাসের মাথায় বসানোর চেষ্টা।
ধর্ম আলাদা হলেই কি জাতি আলাদা?
জিন্নাহ র রাজনীতি বুঝতে হলে প্রথমে “জাতি” বলতে কী বোঝায়, সেটি পরিষ্কার করা প্রয়োজন। জাতি শুধু একই ধর্মের মানুষের সমষ্টি নয়। সাধারণভাবে অভিন্ন ইতিহাস ও স্মৃতি, ভাষা, সংস্কৃতি, ভূখণ্ড, অর্থনৈতিক জীবন, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং একসঙ্গে ভবিষ্যৎ নির্মাণের ইচ্ছা থেকে জাতি গড়ে ওঠে। বেনেডিক্ট অ্যান্ডারসন জাতিকে “কল্পিত রাজনৈতিক সম্প্রদায়” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এখানে কল্পিত মানে মিথ্যা নয়; একটি জাতির অধিকাংশ মানুষ পরস্পরকে ব্যক্তিগতভাবে না চিনলেও নিজেদের একই রাজনৈতিক সমাজের সদস্য মনে করে।
ধর্ম, জাতি, জাতিগোষ্ঠী ও রাষ্ট্র এক বিষয় নয়; এই ধারণাগুলো আলাদা:
একজন মানুষ একই সঙ্গে বাঙালি, বাংলাদেশি, মুসলমান, সিলেটি এবং আমেরিকান নাগরিক হতে পারেন। এসব পরিচয় পরস্পরকে বাতিল করে না। সমস্যা দেখা দেয় যখন কোনো একটি পরিচয়কে মানুষের একমাত্র ও অপরিবর্তনীয় পরিচয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
হিন্দু ও মুসলমান দুটি পৃথক ধর্মীয় সম্প্রদায়, কিন্তু শুধু ধর্ম আলাদা বলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুটি জাতি হয়ে যায় না। বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, তুর্কি, ইরানি ও ইন্দোনেশীয়দের বড় অংশ মুসলমান, কিন্তু তারা এক জাতি নয়। একইভাবে ভারতীয়, নেপালি কিংবা বালিনিজ হিন্দুরাও একক জাতি নয়। অন্যদিকে একই জাতির মধ্যে একাধিক ধর্মের মানুষ থাকতে পারে। বাংলাদেশি জাতির মধ্যে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও বিভিন্ন আদিবাসী ধর্মের অনুসারী রয়েছেন।
একজন বাঙালি মুসলমান ও একজন বাঙালি হিন্দুর ধর্ম আলাদা হলেও তাঁদের ভাষা, সাহিত্য, খাদ্য, নদী, লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক স্মৃতিতে গভীর মিল রয়েছে। আবার একজন বাঙালি মুসলমান ও একজন পাঞ্জাবি মুসলমানের ধর্ম এক হলেও ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক অভিজ্ঞতা অনেক আলাদা। এখানেই দ্বিজাতিতত্ত্বের মৌলিক দুর্বলতা। এটি ধর্মীয় পার্থক্যকে প্রধান করেছে, কিন্তু ভাষা, অঞ্চল, সংস্কৃতি, শ্রেনী ও অর্থনৈতিক বৈষম্যকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি।
জিন্নাহ র দ্বিজাতিতত্ত্ব তাই কোনো সর্বজনীন বৈজ্ঞানিক সত্য ছিল না; এটি ছিল ঔপনিবেশিক ভারতের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে উত্থাপিত রাজনৈতিক দাবি। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রে মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব, নিরাপত্তা ও ক্ষমতার অংশীদারীত্ত্ব নিয়ে বাস্তব সমস্যা ছিল। ব্রিটিশদের পৃথক নির্বাচনব্যবস্থা, ধর্মভিত্তিক আদমশুমারি, কংগ্রেস-মুসলিম লীগ প্রতিযোগিতা এবং সাম্প্রদায়িক সংঘাত সেই সমস্যাকে আরও তীব্র করে। কিন্তু এসব সমস্যা বাস্তব হলেই তার সমাধান হিসেবে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র চূড়ান্ত সত্য হয়ে যায় না।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা দ্বিজাতিতত্ত্বের রাজনৈতিক সাফল্য ছিল; ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিভক্তি ছিল তার ধারণাগত সীমাবদ্ধতার প্রমাণ। শুধু মুসলমান হওয়ার পরিচয় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানকে এক জাতিতে পরিণত করতে পারেনি। ১৯৭১ প্রমাণ করেছে, ধর্ম সাংস্কৃতিক উপাদান গুলোর মধ্যে একটি হতে পারে, জাতি গঠনের একমাত্র ভিত্তি নয় অবশ্যই; একই ধর্মের মানুষও ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নে পৃথক জাতি গঠন করতে পারে। এখনকার বেলুচিস্তান কিংবা আজাদ কাশ্মীরের অবস্থাও আমাদের অবস্থানকে প্রমান করে।
দ্বিজাতিতত্ত্বের আরো সমস্যা
যদি বলা হয় হিন্দু ও মুসলমান দুটি পৃথক জাতি, তাহলে প্রশ্ন আসে—শিয়া ও সুন্নি কি পৃথক জাতি? সোদী মুসলিম ও ভারতীয় বা বাঙালি মুসলমান কী এক? অথবা বাঙ্গালী ও পাঞ্জাবি মুসলমান কি এক জাতি? তামিল হিন্দু ও কাশ্মীরি হিন্দু কি একই জাতি? আহমদিয়া, খ্রিষ্টান, শিখ, বৌদ্ধ ও আদিবাসীরা কোন জাতির অন্তর্ভুক্ত হবে?
ধর্মকে জাতির একমাত্র ভিত্তি করলে এ প্রশ্নগুলোর গণতান্ত্রিক উত্তর পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। রাষ্ট্র তখন নাগরিককে সমান ব্যক্তি হিসেবে না দেখে প্রথমে তার ধর্মীয় পরিচয় জানতে চায়। সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় রাষ্ট্রের “প্রকৃত মালিক” এবং অন্যরা সহ্য করা সংখ্যালঘুতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। আসলে “মুসলিম উম্মাহ”নামের প্রত্যয়টির মাঝে যে অনৈহাসিক রোমান্টিসিজম আছে সেটির একটি বহিঃপ্রকাশ হলো দ্বিজাতিতত্ত্ব; “মুসলিম উম্মাহ” এক ধরনের রূপকল্প যেটি কখনোই ছিলোনা, এখনো নেই। এটি আমার ব্যক্তিগত অভিমত।
এখানে আমার মতে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো এই যে, হিন্দু ও মুসলমান দুটি পৃথক “ধর্মীয়” সম্প্রদায়, এটি সত্য। ইতিহাসের নির্দিষ্ট সময়ে তাদের একটি নিজেদের পৃথক রাজনৈতিক জাতি হিসেবেও সংগঠিত করেছে, এটিও সত্য। কিন্তু তারা চিরকাল, সর্বত্র এবং স্বভাবগতভাবে দুটি পৃথক জাতি, এটি কোনো নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক সত্য নয়; এটি একটি রাজনৈতিক দাবি। ধর্ম সংস্কৃতির একটি উপাদান মাত্র, কিন্তু এটি দিয়ে সব ধর্মের মানুষকে পৃথক “জাতি” বা “সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী” হিসেবে দাবী করাটা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। এটি সঠিক হলে পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মের মানুষেরা বিভিন্ন দেশে একসাথে থাকতে পারতোনা। কাজেই রাজনৈতিক তত্ত্বের ভিত্তিতে বলা যায়, জিন্নাহ’র ধারনাটি তত্ত্বের একটি প্রয়োজনীয় উপাদান সার্বজনীনতার শর্ত পূরন করেনা। জিন্নাহ’র তত্ত্ব সঠিক হলে পাকিস্তান একটি শান্তির দেশ হতো, এবং মুসলমানদের মধ্যে কোন হানাহানি বা মারামারি থাকতোনা। এখানেই চৌধুরী রহমত আলীর অনেকগুলো মুসলিম রাষ্ট্র নির্মানের ধারনাটি অনেক বেশী সাংস্কৃতিক ধারনার ওপর জোর দিয়েছিলো।
পাকিস্তান নামের মধ্যে বাংলা কোথায়?
১৯৩৩ সালের ২৮ জানুয়ারি কেমব্রিজের ৩ নম্বর হাম্বারস্টোন রোড থেকে চৌধুরী রহমত আলী নাউ অর নেভার (Now or Never) পুস্তিকা প্রকাশ করেন। সেখানে “PAKISTAN” বলতে Punjab, Afghan Province, Kashmir, Sindh ও Baluchistan বোঝানো হয়েছিল। এই প্রথম ভৌগোলিক কল্পনায় বাংলা ছিল না।
পরবর্তী সময়ে রহমত আলী বাংলা ও আসামকে নিয়ে আলাদা “Bangistan”, “Bang-i-Islam” বা “Bang-i-Islamistan” রাষ্ট্রের ধারণা দেন। একইভাবে হায়দরাবাদ ও দাক্ষিণাত্যের জন্য “Osmanistan”সহ আরও কয়েকটি রাষ্ট্রের প্রস্তাব করেছিলেন। অর্থাৎ তাঁর কল্পনায় বাংলা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে হাজার মাইল দূরের একটি পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ নয়, পৃথক রাষ্ট্র হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু এ থেকে জিন্নাহ পূর্ববঙ্গকে পাকিস্তানে চাননি, এমন সিদ্ধান্ত টানা যাবে না। কারণ নাম ও প্রাথমিক পরিকল্পনাটি রহমত আলীর, জিন্নাহ র নয়। বাস্তবে বাংলা ছাড়া জিন্নাহ র পাকিস্তান প্রকল্প জনসংখ্যা, অর্থনীতি ও নির্বাচনী শক্তির দিক থেকে অনেক দুর্বল হয়ে যেত। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন বাংলার প্রধানমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে বাংলার ১১৯টি মুসলিম আসনের মধ্যে মুসলিম লীগ ১১৩টিতে জয়ী হয়। এই বিজয় পাকিস্তান দাবির পক্ষে জিন্নাহ কে বিরাট রাজনৈতিক শক্তি দেয়।
অতএব সবচেয়ে নির্ভুল কথা হলো: জিন্নাহ পূর্ববঙ্গকে পাকিস্তানে নিতে আগ্রহী ছিলেন, কিন্তু বাঙালির ভাষা ও জাতিসত্তাকে পাকিস্তানের সমান ভিত্তি হিসেবে স্বীকার করতে প্রস্তুত ছিলেন না।
প্রয়োজন ছিল পূর্ববঙ্গের, স্বীকৃতি ছিল না বাঙালিত্বের
পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বাংলায় কথা বললেও ১৯৪৮ সালের মার্চে ঢাকা সফরে জিন্নাহ ঘোষণা করেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দান এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে তিনি এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষার্থীরা তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছিলেন।
এখানেই জিন্নাহ র পাকিস্তান ধারণার প্রধান বৈপরীত্য প্রকাশিত হয়। পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল পূর্ববঙ্গের মানুষ, ভোট, ভূমি, শ্রম, পাট ও অর্থনৈতিক সম্পদ; কিন্তু রাষ্ট্রের পরিচয় নির্ধারণে বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতিকে সমমর্যাদা দেওয়া হয়নি। এই অস্বীকৃতি থেকেই ভাষা আন্দোলন শক্তিশালী হয় এবং তার ধারাবাহিকতা শেষ পর্যন্ত স্বাধিকার, গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধে পৌঁছায়। অন্যদিকে স্বীকৃত PAKISTAN এর মধ্যে আফগানরা আসেনি কখনোই; কাজেই জিন্নাহ’র তত্ত্বটিতে তাত্ত্বিক যে সার্ব্জনীনতা থাকতে হয় তত্ত্ব হওয়ার জন্য সেটি নেই।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au