২০ সেপ্টেম্বর ‘ঢাকা লকডাউন’, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের কাউন্টডাউন শুরু
রাজধানী ঢাকায় আগামীকাল রোববার ‘লকডাউন’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠন যুবলীগ। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর দিনব্যাপী এ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।…
পটুয়াখালীর বাউফলে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল নামে এক ব্যবসায়ীকে ‘জ্যান্ত পুড়িয়ে’ হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা মো. ফরিদ উদ্দিন গাজীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এক মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের একটি ফোনালাপের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
অভিযোগের পর ফরিদ উদ্দিন গাজীকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে হুমকির অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। পরে ফরিদ গাজীকে দলীয় সব সাংগঠনিক পদ ও কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছে জেলা বিএনপি।
গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বাউফল সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাঁর বয়স ৫২ বছর। তিনি ঢাকায় জমি কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি এলাকায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার এবং মাছের ঘেরের ব্যবসা রয়েছে তাঁর। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়েছেন।
গোবিন্দের অভিযোগ, প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এর ধারাবাহিকতায় ফরিদ গাজী তাঁকে ফোন করে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেন। গোবিন্দের দাবি, এর আগেও তাঁকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। তবে আগের ওই কথোপকথন তিনি রেকর্ড করতে পারেননি বলে জানান।

ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল। ছবিঃ সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফোনালাপের রেকর্ডে একজনকে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে ‘দাদু’ সম্বোধন করে নিজের পরিচয় দিতে শোনা যায়। এরপর ওই ব্যক্তি বলেন, তাঁর একটি শখ জেগেছে এবং তিনি একজনকে বেছে নিয়েছেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, তিনি গোবিন্দকে জীবিত অবস্থায় পুড়িয়ে দিতে চান।
অডিওতে ওই ব্যক্তিকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘জ্যাতা নমো পুড়মু, আপনারেই বাইছা নিছি।’ তিনি গোবিন্দের কাছে জানতে চান, এ বিষয়ে তাঁর মন্তব্য কী। এমনকি ফোনালাপটি রেকর্ড করে রাখার কথাও বলেন তিনি।
জবাবে গোবিন্দ বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য নেই। তখন অপর প্রান্তের ব্যক্তি বলেন, ‘আপনাগো তো মরার পর পোড়ে, আমি আপনারে মরার আগেই পুড়তে চাই।’ পরে গোবিন্দ বলেন, ‘এইটা আপনার শখ।’ ওই ব্যক্তি জবাবে বলেন, ‘এইটা আমার স্বভাব না।’ ফোনালাপের একপর্যায়ে তিনি গোবিন্দ কবে এলাকায় আসবেন, সে বিষয়েও জানতে চান।
গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল দাবি করেন, ফোনালাপের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি বিএনপি নেতা ফরিদ উদ্দিন গাজী। তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই তিনি চাপ ও হুমকির মধ্যে রয়েছেন।
গোবিন্দ বলেন, ‘আমি ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরে এবং এর আগেও তিনি আমাকে মোবাইলে হুমকি দিয়েছেন। তখন ৫০ লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করেছিলেন। তখনকার কথা রেকর্ড করতে পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি শঙ্কিত। তাই থানায় জিডি করেছি।’
জিডিতে ফরিদ উদ্দিন গাজীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর সাংগঠনিক পরিচয় নিয়ে কিছুটা ভিন্নতা পাওয়া গেলেও তাঁকে বাউফল উপজেলা বিএনপির সঙ্গে যুক্ত নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি বাউফল সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস এলাকায়।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের করা জিডির বিষয়ে আদালতের আদেশ পাওয়ার পর তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, জিডির বিষয়টি জানতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, ফরিদ গাজী অন্য একটি মামলার আসামি।
পরে চেক প্রতারণার মামলায় ফরিদ গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান ওসি।
এদিকে, হুমকির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ফরিদ উদ্দিন গাজীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয় বিএনপি। পটুয়াখালী জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁকে দলীয় সব সাংগঠনিক পদ ও কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটন এর আগে জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নিয়ে বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে জড়িত নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফরিদ গাজীকে দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলার স্বার্থে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি বিএনপির কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় সাংগঠনিক নেতাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
তবে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ফরিদ উদ্দিন গাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওটির কণ্ঠস্বর ফরিদ গাজীরই কি না, সেটিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের তদন্তের পরই এ বিষয়ে আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল তাঁর ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, জিডির তদন্ত ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au