অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টে।
ব্যাংকসটাউন হাসপাতালে ইসরায়েলি রোগীদের হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত দুই সাবেক নার্স অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্টে সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক যোগাযোগের স্বাধীনতার অন্তর্নিহিত অধিকারের ওপর অননুমোদিতভাবে বোঝা তৈরি করছে।
সারাহ আবু লেবদেহ ও আহমাদ রাশাদ নাদিরের বিরুদ্ধে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করে হুমকি, হয়রানি বা আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। ইসরায়েলি রোগীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার হুমকি দেওয়ার অভিযোগের একটি রেকর্ড প্রকাশ্যে আসার পর তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
এখন তারা অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টে গিয়ে এসব অভিযোগের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করতে চাইছেন। এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা হলে নিউ সাউথ ওয়েলসের জেলা আদালতে চলমান মামলার বিচার পিছিয়ে যেতে পারে।
আহমাদ রাশাদ নাদিরের আইনজীবী জেমারাই খাতিজ জানিয়েছেন, সারাহ আবু লেবদেহর আইনজীবী রায়ান কাদাদি ইতোমধ্যে জেলা আদালতে তাদের পরিকল্পিত সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের বিষয়ে নোটিশ জমা দিয়েছেন। তিনিও একই ধরনের একটি নোটিশ প্রস্তুত করছেন।
জেমারাই খাতিজ বলেন, “আমরা অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্টে একটি সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি নিচ্ছি। অভিযোগগুলোর বৈধতা নিয়েই এই চ্যালেঞ্জ। আমাদের দাবি, অভিযোগগুলো রাজনৈতিক যোগাযোগের অন্তর্নিহিত অধিকারের ওপর অননুমোদিতভাবে বোঝা তৈরি করছে।”
তিনি বলেন, “অভিযোগগুলো সাংবিধানিকভাবে বৈধ কি না, তা হাইকোর্ট নির্ধারণ করবে।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের নিষ্পত্তিতে যথেষ্ট সময় লাগতে পারে। ফলে ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর শুরু হওয়ার কথা থাকা বিচার আগামী বছর পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।
সারাহ আবু লেবদেহ ও আহমাদ রাশাদ নাদিরের বিচার এর আগেও বাতিল হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে তাদের পাঁচ দিনের বিচার ৩১ আগস্ট শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্য যুক্ত হওয়ায় একজন বিচারক ওই বিচার বাতিল করেন।
পরে ২১ আগস্ট নতুন করে বিচার শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে ১২ অক্টোবর থেকে দুই সপ্তাহ ধরে তাদের বিচার চলার কথা রয়েছে।
জেমারাই খাতিজ জানান, তাদের প্রস্তুত করা সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মতো আরেকটি উল্লেখযোগ্য মামলা ছিল লিন্ডট ক্যাফে অবরোধের বন্দুকধারী ম্যান হারন মোনিসের মামলা।
আফগানিস্তানে নিহত অস্ট্রেলীয় সেনাদের পরিবার এবং ইন্দোনেশিয়ায় নিহত অস্ট্রেডের এক কর্মকর্তার পরিবারকে আপত্তিকর চিঠি পাঠানোর অভিযোগে ম্যান হারন মোনিসের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, ওই চিঠিগুলো বিদেশে অস্ট্রেলিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিবাদ ছিল এবং তার রাজনৈতিক যোগাযোগের স্বাধীনতার অন্তর্নিহিত অধিকার এতে প্রযোজ্য।
ওই মামলায় ছয় বিচারপতির হাইকোর্টে মতবিভাজন দেখা দিয়েছিল। বিচারপতি সুসান ক্রেনান, সুসান কিফেল ও ভার্জিনিয়া বেল মনে করেছিলেন, মানুষকে আপত্তিকর যোগাযোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনটি প্রয়োজনীয়।
অন্যদিকে বিচারপতি কেনেথ হেইন, ডাইসন হেইডন এবং প্রধান বিচারপতি রবার্ট ফ্রেঞ্চ মনে করেছিলেন, আইনটি রাজনৈতিক বক্তব্যের ওপর অসাংবিধানিক বোঝা তৈরি করছে এবং সে কারণে এটি বৈধ নয়।
তবে বিচারপতিদের বিভক্ত সিদ্ধান্তের ফলে আইনটি বহাল থাকে।
লিন্ডট ক্যাফে অবরোধের মাত্র কয়েক দিন আগে ম্যান হারন মোনিস ওই সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ পুনরায় শুনানির জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। তবে প্রধান বিচারপতি রবার্ট ফ্রেঞ্চ ও বিচারপতি গ্যাগেলার সংক্ষিপ্ত শুনানির পর আবেদনটি খারিজ করে দেন।
ব্যাংকসটাউন হাসপাতালের সাবেক দুই নার্সই তাদের বিরুদ্ধে আনা হুমকি, হয়রানি বা আপত্তিকর আচরণের অভিযোগে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। সারাহ আবু লেবদেহর বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠীকে সহিংসতার হুমকি দেওয়ার আরও একটি অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগেও তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
নিউ সাউথ ওয়েলস হেলথ কর্তৃপক্ষ তাদের চাকরি থেকে সরিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি এনডিআইএসের অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রেও তাদের ওপর দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সুত্রঃ দ্য অস্ট্রেলিয়ান