ভারতে সমুদ্রে ডুবে ৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
ভারতের মহারাষ্ট্রে সমুদ্রে সাঁতার কাটতে নেমে পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে আট শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার দিভেগার সমুদ্রসৈকতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়…
প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ফের ধীরগতি দেখা দিয়েছে। সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বর মাসে দেশে এসেছে মাত্র ২৭৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স, যা গত ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। আগস্টে ২৯৬ কোটি ৬৭ লাখ ডলার আসার পর এক মাসের ব্যবধানে রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ২০ কোটি ডলার বা ৭ শতাংশ। তবে আগের বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় এবারও প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। একই সঙ্গে জুলাই-সেপ্টেম্বর তিন মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৮৫৯ কোটি ১০ লাখ ডলার।
এর মধ্যে জুলাইয়ে ২৮৫ কোটি ৮৮ লাখ এবং আগস্টে ২৯৬ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এলেও সেপ্টেম্বরে তা নেমে এসেছে ২৭৭ কোটি ডলারের নিচে। ফলে টানা চার মাস ধরে মাসিক রেমিট্যান্স ৩০০ কোটি ডলারের নিচে রয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত টানা ছয় মাস প্রতি মাসে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল।
রেমিট্যান্সের এই গতি কমার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যাংকার ও খাতসংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত। সাম্প্রতিক সংঘাত ও অনিশ্চয়তার কারণে ওই অঞ্চলের শ্রমবাজার, ব্যবসা ও আয়ের ওপর চাপ তৈরি হলে তার প্রভাব দেশে পাঠানো অর্থেও পড়তে পারে। শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই কয়েক মাস ধরে মাসিক রেমিট্যান্স ৩০০ কোটি ডলারের নিচে রয়েছে।
শ্রমবাজারের পরিস্থিতিও ভবিষ্যৎ রেমিট্যান্সের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশের বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং সৌদি আরবের কাগজপত্রসংক্রান্ত কঠোরতার কারণে কর্মী যাওয়ার গতি কমেছে। নতুন কর্মী কম গেলে কয়েক মাস পর তার প্রভাব প্রবাসী আয়ের ওপর পড়ার আশঙ্কা থাকে।
অন্যদিকে গত অর্থবছরের উচ্চ প্রবৃদ্ধির পর তুলনামূলক বড় ভিত্তির প্রভাবও সেপ্টেম্বরে প্রবৃদ্ধি কম দেখানোর একটি কারণ হতে পারে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেও ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রয়েছে। অর্থাৎ সামগ্রিক প্রবাহ এখনো ঊর্ধ্বমুখী, তবে গত বছরের তুলনায় মাসিক গতির সেই উল্লম্ফন ধরে রাখা যাচ্ছে না।
রেমিট্যান্স কমার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহে তার প্রভাব পড়তে পারে। কারণ প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস; আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক দেনা পরিশোধসহ বহিঃখাতের লেনদেনে এ অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এখনই রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের পতন হয়েছে এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ১৩ শতাংশের বেশি রয়েছে। বরং মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার, নতুন কর্মী যাওয়ার গতি এবং আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতার ওপর নির্ভর করবে আগামী মাসগুলোতে প্রবাসী আয়ের গতি কোন দিকে যায়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au