প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ভারতে যা যা ঘটছে
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলোর বিক্ষোভ সমাবেশে অভিযান চালিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন বিরোধী আইনপ্রণেতাকে আটক করেছে দিল্লি…
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। একই দিনে ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ধারাবাহিক বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা নতুন বার্তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে বলা হয়, জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গে ত্রিবেদীর আলোচনায় বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা সম্পর্ক শক্তিশালী করার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বৈঠকে বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে বা কী বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এর আগে একই দিন নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন ত্রিবেদী। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে দুই দেশের সম্পর্ককে স্বাভাবিক ও ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ভারতের আগ্রহের বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে স্পষ্ট হয়েছে।
এখানেই ত্রিবেদীর সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকটি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নিয়েও নয়াদিল্লি ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে চাইছে—এমন ইঙ্গিত মিলছে।
সেনাপ্রধানের সঙ্গে আলোচনায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি সামনে আসায় সীমান্ত নিরাপত্তা, সামরিক যোগাযোগ ও দুই দেশের নিরাপত্তা স্বার্থের মতো বিষয়গুলো আলোচনার পরিধিতে থাকতে পারে। তবে এসব বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কথা ভারতীয় সেনাবাহিনী জানায়নি।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, গত কয়েক বছরে দুই দেশের সম্পর্কে রাজনৈতিক পরিবর্তন, সীমান্ত, নিরাপত্তা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানসহ নানা বিষয় নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে একই দিনে ত্রিবেদীর বৈঠককে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ধরে রাখার একটি কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে ত্রিবেদী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের আমন্ত্রণ খোলা রয়েছে এবং পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে সফরটি হতে পারে। একই সময়ে দুই দেশ বাণিজ্য ও কনস্যুলার বিষয়েও প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে সংবাদ এসেছে।
এর আগে গত ১১ আগস্টও মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ত্রিবেদী। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর একাধিক বৈঠক এবং এবার সেনাপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের কোনো কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে কিনা তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au