পেরিশিচের লাল কার্ডে ক্ষুব্ধ বিলিচ, কাঠগড়ায় কুকুরেয়া
স্পেনের কাছে ২-১ গোলে হারের হতাশার সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার কষ্ট আরও বাড়িয়েছে ইভান পেরিশিচের বিতর্কিত লাল কার্ড। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে স্পেনের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়ার সঙ্গে সংঘর্ষের…
হবিগঞ্জের মাধবপুরের ঐতিহ্যবাহী পানির ফিল্টার একসময় দেশ-বিদেশে পরিচিতি পেয়েছিল। সিমেন্ট, পাথর, লাইমস্টোন পাউডার ও মোজাইকের বিশেষ মিশ্রণে হাতে তৈরি তিন স্তরের এসব ফিল্টার পানি বিশুদ্ধ করার পাশাপাশি দীর্ঘসময় ঠাণ্ডা রাখত। স্থানীয় কারিগরদের দক্ষ হাতে তৈরি এই ফিল্টার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হতো। তবে সময়ের পরিবর্তনে প্লাস্টিক, ফাইবার, স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি আধুনিক ফিল্টারের বাজার বিস্তৃত হওয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে মাধবপুরের এই ঐতিহ্য। কমেছে উৎপাদন, বন্ধ হয়েছে অনেক কারখানা। কাজের অভাবে পেশা বদলেছেন বহু কারিগর।
হীরালাল রায়ের হাত ধরে যাত্রা
স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালে মাধবপুরের হীরালাল রায় হাতে তৈরি বিশেষ ধরনের পানি বিশুদ্ধকরণ ফিল্টার উদ্ভাবন করেন। পরে স্থানীয় কারিগরদের দক্ষতা ও শ্রমে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই পণ্য। একসময় এটি ‘মাধবপুর ফিল্টার’ নামে পরিচিতি পায়।
বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি এসব ফিল্টারে ব্যবহার করা হতো সিমেন্ট, পাথর, লাইমস্টোন পাউডার, বালি, কংক্রিট, মোজাইকসহ বিভিন্ন উপকরণ। তিনটি স্তরে সাজানো এসব উপাদানের মধ্য দিয়ে পানি ধীরে ধীরে পরিশোধিত হয়ে নিচের অংশে জমা হতো। একই সঙ্গে ফিল্টারের গঠন ও উপকরণের কারণে পানি দীর্ঘসময় অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা থাকত।
দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও ছিল চাহিদা
একসময় মাধবপুরের ফিল্টারের ব্যাপক চাহিদা ছিল। সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা এখান থেকে ফিল্টার কিনে নিয়ে যেতেন। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ভারত, পাকিস্তানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও এসব ফিল্টার রপ্তানির তথ্য রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, মাধবপুর পৌরসভার কাছারি এলাকা ও আশপাশে একসময় ১৫ থেকে ১৭টি ফিল্টার কারখানা ছিল। এসব কারখানায় কাজ করতেন দুই শতাধিক শ্রমিক। উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বহু কারিগর, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষ। ফিল্টার তৈরির কাজ ঘিরে স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠেছিল একটি ক্ষুদ্র শিল্প।
আধুনিক ফিল্টারের দাপটে হারাচ্ছে ঐতিহ্য
সময়ের সঙ্গে মানুষের ব্যবহার ও পছন্দের ধরন বদলেছে। বাজারে সহজলভ্য হয়েছে প্লাস্টিক, ফাইবার, স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি আধুনিক ফিল্টার। এসব ফিল্টার তুলনামূলক হালকা, সহজে বহনযোগ্য এবং বিভিন্ন নকশায় পাওয়া যায়। ফলে ভারী ও হাতে তৈরি মাধবপুরের ফিল্টারের চাহিদা কমতে থাকে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি। সিমেন্ট, বালি, পাথর, মোজাইকসহ প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব এবং বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ায় পুরোনো পদ্ধতির এই শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে উঠেছে।
একসময় যেখানে অর্ডার সামলাতে কারিগরদের হিমশিম খেতে হতো, সেখানে এখন সপ্তাহেও অর্ডার পাওয়া কঠিন। ১৫-১৭টি কারখানার অধিকাংশই বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি কারখানায় সীমিত পরিসরে উৎপাদন চলছে।
সপ্তাহেও মেলে না একটি অর্ডার
স্থানীয় কারিগর বাবু সুরঞ্জন বলেন, ‘আমরা বাবার আমল থেকে ফিল্টার বানাচ্ছি। আগে প্রতিদিন অর্ডার সামলাতে হিমশিম খেতে হতো। এখন সপ্তাহেও একটা অর্ডার পাই না। অনেকে কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন।’
মাধবপুর বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী সাদেক মিয়া বলেন, ‘একসময় এখানকার ফিল্টার সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফরিদপুরসহ দেশের নানা জেলায় যেত। এখন শুধু স্থানীয়ভাবে অল্প কিছু বিক্রি হয়। সেই রমরমা দিন আর নেই।’
পুনরুজ্জীবনের প্রত্যাশা কারিগরদের
কারিগরদের মতে, সরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ, আধুনিক নকশা ও প্রযুক্তির সংযোজন এবং বাজারজাতকরণে সহায়তা দেওয়া গেলে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে আবারও ঘুরে দাঁড় করানো সম্ভব। এতে পুরোনো একটি স্থানীয় শিল্প সংরক্ষণের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান বলেন, ‘হাতে তৈরি ফিল্টার একসময় মাধবপুরের একটি ব্র্যান্ড ছিল। সময়ের পরিবর্তনে এই শিল্প পিছিয়ে পড়লেও এর সুনাম দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে আছে। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে কীভাবে সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবিত করা যায়, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনার সুযোগ রয়েছে।’
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au