আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির বর্তমান ছবি (বাঁয়ে), আগের ছবি (ডানে)। ছবি : সংগৃহীত
বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর প্রায় ছয় বছর পেরিয়ে গেছে। তবে উচ্চ আদালতে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলেই দিন কাটছে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির। পরিবারের দাবি, কারাগারে মিন্নির শারীরিক অবস্থা ভালো নয়, কমে গেছে ওজন। কারা সূত্রের ভাষ্য, দিনের অধিকাংশ সময় নীরব থাকেন তিনি, কাটে ইবাদত-বন্দেগিতে।
মিন্নির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের আবেদন (ডেথ রেফারেন্স) ও দণ্ডের বিরুদ্ধে করা আপিল এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। একই সঙ্গে ২০২২ সালে করা তার জামিনের আবেদনও শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। দ্রুত শুনানির আশায় রয়েছেন তার আইনজীবীরা।
২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বিচারিক আদালত মিন্নিসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষা
রায়ের পর ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একই বছর মিন্নিসহ ছয় আসামি দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেন। আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, মামলার শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুতের প্রক্রিয়া চলছে।
ডেথ রেফারেন্স কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির জানান, বর্তমানে হাইকোর্টে ২০১৯ সালে আসা ডেথ রেফারেন্সগুলোর শুনানি চলছে। রিফাত হত্যা মামলার আবেদনটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা খোঁজ নিয়ে জানাতে পারবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমানে হাইকোর্টে ১ হাজার ২৬৫টি ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। কয়েক বছর আগে এ সংখ্যা ছিল ৮৪৩টি। ফলে মৃত্যুদণ্ডের মামলাগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঝুলে আছে জামিন আবেদন
মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, সাক্ষীদের বক্তব্যে মিন্নির সম্পৃক্ততা নিয়ে ভিন্নতা রয়েছে। তার অসুস্থতা ও নারী বন্দি হিসেবে পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২২ সালের ১৬ অক্টোবর হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়।
আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ আবেদনটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে অন্য বেঞ্চে উপস্থাপন করা হলে শুনানি মুলতবি হয়। এরপর আবেদনটি আর শুনানির তালিকায় ওঠেনি।
বাবার অভিযোগ, কারাগারে নীরব মিন্নি
মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের অভিযোগ, ষড়যন্ত্র করে তার মেয়েকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তার ভাষ্য, মাসে একবার মেয়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কারা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কাশিমপুর কারাগার থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরের পর মিন্নি সেখানকার কনডেম সেলে রয়েছেন। তিনি ওই কারাগারের একমাত্র নারী বন্দি।
স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও ফোনে কথা বলার সুযোগ সীমিত। দিনের বেশির ভাগ সময় নীরব থেকে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন তিনি।