হিন্দু ব্যবসায়ীকে হানি ট্র্যাপে ফাঁসিয়ে নির্যাতন, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে হানি ট্র্যাপে ফাঁসিয়ে মারধর, নগ্ন ভিডিও ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এক ছাত্রদল নেতাসহ তিনজনকে…
আজ বিশ্ব ডিম দিবস। পুষ্টির সহজলভ্য উৎস হিসেবে পরিচিত ডিম নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। দেশে ডিমের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়লেও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বাজারব্যবস্থার নানা জটিলতায় বাড়ছে দাম। ফলে একসময় স্বল্পমূল্যে আমিষের চাহিদা মেটানোর অন্যতম ভরসা ডিম কিনতেও হিমশিম খাচ্ছেন দরিদ্র মানুষ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকায়। অর্থাৎ একটি ডিমের দাম পড়ছে ১৩ টাকার বেশি। সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য নিয়মিত ডিম কেনা এখন বাড়তি ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কাওরান বাজারে পণ্য কিনতে এসে ভ্যানচালক আমিনুল ইসলাম সজিব বলেন, সারারাত ভ্যানে পণ্য সরবরাহ করে দিনে আয় করেন ৬৫০ টাকা। এই টাকা দিয়ে সংসারের খরচ চালাতে হয়। তিনি বলেন, ‘আগে এক থাল ভাত একটা ডিম দিয়ে খেয়ে নিতে পারতাম। এখন ডিমের যে দাম, কিনতে কষ্ট হচ্ছে।’
ডিমের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ২ হাজার ৪৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডিম উৎপাদিত হয়। প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে ৬ কোটিরও বেশি ডিম। এ হিসাবে দেশে বার্ষিক মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা প্রায় ১৩৭টি।
ডিমের প্রাপ্যতা বাড়লেও উৎপাদন খরচের চাপ কমেনি। পোলট্রি ফিড, বাচ্চা, ওষুধ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে খামারিদের ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব এবং সরবরাহব্যবস্থার ত্রুটির কারণে খামার থেকে ভোক্তা পর্যন্ত দামের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, খামার পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য ও খুচরা বাজারের দামের ব্যবধানের কারণে একদিকে প্রান্তিক খামারিরা লোকসানে পড়ছেন, অন্যদিকে বেশি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। উৎপাদন বাড়লেও এর সুফল সাধারণ ভোক্তাদের কাছে পুরোপুরি পৌঁছাচ্ছে না।
পুষ্টির চাহিদা ও ডিমের গুরুত্ব
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মতে, পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও সুস্বাস্থ্যের জন্য একজন মানুষের বছরে ন্যূনতম ১০৪টি ডিম খাওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা এ পরিমাণের চেয়ে বেশি হলেও সবার পক্ষে নিয়মিত ডিম খাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
মাথাপিছু ডিম ব্যবহারে বিশ্বের শীর্ষ দেশ মেক্সিকো, যেখানে বছরে গড়ে ৪০৯টি ডিম ব্যবহৃত হয়। জাপানে এ সংখ্যা ৩৩৭টি। বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে মাথাপিছু বার্ষিক ডিমের প্রাপ্যতা ২০০টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রতি বছর অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্ব ডিম দিবস পালিত হয়। এবারের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য ‘শক্তি জোগায়, সুরক্ষা দেয় যে প্রোটিন’। ডিমের উচ্চমানের প্রোটিন পেশি গঠন, মস্তিষ্কের বিকাশ ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করে ডিমের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা না গেলে পুষ্টির এই সহজলভ্য উৎস দরিদ্র পরিবারের কাছে ক্রমেই দুর্লভ হয়ে উঠবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au