জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে ত্রুটির কারণে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। শনিবার দেশটির বিভিন্ন এলাকায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। বিদ্যুৎব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ায় সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রকৌশলীরা কাজ শুরু করেন। তবে কখন পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন লঙ্কা জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিডে দেখা দেওয়া ত্রুটি মেরামতে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে এ বিপর্যয় ঘটে থাকতে পারে বলে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন। তবে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত ও মেরামতের কাজ চলছে।
দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী অনুরা করুণাতিলাকা জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কাজে সহায়তা করতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা গ্রাহকদের সেগুলো জাতীয় গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেও শ্রীলঙ্কায় একই ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছিল। সে সময় পুরো জাতীয় গ্রিড বন্ধ হয়ে যায়। রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বেড়ে বিদ্যুতের চাহিদাকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় সরবরাহব্যবস্থায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছিল বলে জানানো হয়। ওই সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছিল।
শ্রীলঙ্কায় বর্তমানে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি। অথচ দিনের বেলায় দেশটির বিদ্যুতের চাহিদা থাকে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। কর-সুবিধার কারণে দেশটিতে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের প্রবণতা বেড়েছে। অনেক গ্রাহক নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছেন।
তবে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন দ্রুত বাড়তে থাকায় বিদ্যুতের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং জাতীয় গ্রিডের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী তিন বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৪ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। ২০২৪ সালের তুলনায় এ সক্ষমতা প্রায় ৩৮৮ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাও দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।