বর্তমান জনসমর্থনের হার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করতে পলিন হ্যানসন তাঁর ‘প্লিজ এক্সপ্লেইন’ সিরিজকে ব্যবহার করেছেন। ছবি: সরবরাহকৃত
অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর জ্যাকি ল্যাম্বির ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত সমস্যা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনা করে নতুন রাজনৈতিক কার্টুন প্রকাশ করেছেন দেশটির ডানপন্থী দল ওয়ান নেশনের নেতা পলিন হ্যানসন। ‘প্লিজ এক্সপ্লেইন’ সিরিজের সর্বশেষ পর্বে ল্যাম্বির জরায়ু ও যোনিপথের প্রল্যাপসজনিত সমস্যাকে হাস্যরসের উপাদান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত বিষয়কে রাজনৈতিক ব্যঙ্গের অংশ করা হয়েছে।
কার্টুনটির মূল লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সরকারের প্রস্তাবিত ‘ডিজিটাল ডিউটি অব কেয়ার’ বিল। অনলাইনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বিলটি আনা হয়েছে।
কার্টুনে দেখানো হয়, ইন্টারনেটে বাক্স্বাধীনতা সীমিত করতে চাইছেন আলবানিজ। এ জন্য তিনি এমন কয়েকজন রাজনীতিককে একত্র করেন, যাঁরা নিজেরাও নানা কারণে সমালোচিত।
কার্টুনে আলবানিজের চরিত্রকে বলতে শোনা যায়, ‘এমনকি তারা জ্যাকিকেও মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বলছে।’ এর জবাবে ল্যাম্বির কার্টুন চরিত্র বলে, ‘ওটা ওই অভিশপ্ত পলিনের কার্টুন, বন্ধু। এটা বন্ধ করতে হবে।’ এরপর সে আরও বলে, ‘আর আমি হাসতেও পারি না, কারণ আমার যোনিপথ প্রল্যাপস হয়েছে।’
কার্টুনের পরবর্তী অংশেও একই বিষয় নিয়ে ঠাট্টা করা হয়। কোনো কিছুতে হাসির উদ্রেক হলেই ল্যাম্বির চরিত্রকে নিজের শরীর চেপে ধরতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে নিউজওয়্যার ল্যাম্বির সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি একটি অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকায় মন্তব্য দিতে পারেননি।
‘হাজারো অস্ট্রেলীয় নারী এ সমস্যায় ভুগছেন’
বাস্তবে জ্যাকি ল্যাম্বি আগেই এক বক্তব্যে জানিয়েছিলেন, তিনি একা নন, অস্ট্রেলিয়ার হাজারো নারী একই ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন।
তিনি বলেছিলেন, ‘অনেক নারী এই সমস্যায় ভুগছেন। তাঁদের অনেককে প্রায়ই ব্যথা ও বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এটি একটি সাধারণ স্বাস্থ্যগত সমস্যা, যা অস্ট্রেলিয়ার হাজারো নারীকে আক্রান্ত করে।’
জরায়ু বা যোনিপথের প্রল্যাপস এমন একটি অবস্থা, যেখানে পেলভিক ফ্লোরের পেশি ও সহায়ক টিস্যু দুর্বল হয়ে যাওয়ায় পেলভিক অঙ্গ নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। এতে ব্যথা, অস্বস্তি ও দৈনন্দিন কাজে অসুবিধা হতে পারে।
ছাড় পাননি সাবেক সেনাসদস্য অ্যান্ড্রু হ্যাস্টিও
কার্টুনে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সেনাসদস্য অ্যান্ড্রু হ্যাস্টিকেও ব্যঙ্গ করা হয়েছে। যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা ও বীরত্বের পরিচয় থাকলেই যে কেউ সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকবেন না, সেই বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে কার্টুনে।
হ্যাস্টির কার্টুন চরিত্রকে বলতে শোনা যায়, ‘বিশ্বাসঘাতক? আমি বিশ্বাসঘাতক? কিন্তু আমি একজন সাবেক সেনাসদস্য। আমি সমালোচনার ঊর্ধ্বে।’
হ্যাস্টি অস্ট্রেলিয়ার স্পেশাল এয়ার সার্ভিস (এসএএস)-এর সাবেক সদস্য। তিনি আফগানিস্তানে দুই দফায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে নাইন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে করা একটি মানহানির মামলায় বেন রবার্টস-স্মিথের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার পর ওয়ান নেশনের সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। মামলাটিতে রবার্টস-স্মিথের দাবি সফল হয়নি।

পলিন হ্যানসনের ‘প্লিজ এক্সপ্লেইন’ কার্টুন সিরিজে প্রকাশ্যে জানানো জ্যাকি ল্যাম্বির যোনিপথের প্রল্যাপসজনিত শারীরিক সমস্যা নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে। ছবি: সরবরাহকৃত
আলবানিজ ও অর্থমন্ত্রীকেও নিয়ে ব্যঙ্গ
কার্টুনে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের চরিত্রকেও কটাক্ষ করা হয়েছে। সেখানে তাঁকে বলতে দেখা যায়, তাঁর কৌতুক শুনে কেউ না হাসলে সেটিকে ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
অন্যদিকে, অর্থমন্ত্রী জিম চালমার্সকে খেলনা ব্লক নিয়ে খেলতে দেখা যায়। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।

পলিন হ্যানসন তাঁর কার্টুনের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমালোচনা করেছেন। ছবি: নিউজওয়্যার / মার্টিন ওলম্যান
‘প্লিজ এক্সপ্লেইন’ ওয়ান নেশনের তৈরি একটি রাজনৈতিক কার্টুন সিরিজ। এতে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নেতা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়। একই সঙ্গে সিরিজটি ওয়ান নেশনের রাজনৈতিক অবস্থান ও দলটির প্রচারেও ভূমিকা রাখে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া যাচাই করা যায়নি
ভিডিওটির নিচে প্রকাশিত মন্তব্যগুলোর বেশির ভাগই ইতিবাচক ছিল বলে জানিয়েছে নিউজওয়্যার। এক্সে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আমাদের উজ্জ্বল কমলা রঙের “ক্ষতিকর কনটেন্ট” স্টিকার দরকার।’
আরেকজন কার্টুনটিকে অস্ট্রেলিয়ার সেরা রাজনৈতিক ব্যঙ্গগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষায়, এটি অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ, অত্যন্ত হাস্যরসাত্মক, বাস্তবতাকে নিখুঁতভাবে তুলে ধরে এবং অসাধারণ।
কেউ কেউ কার্টুন সিরিজটিকে নেটফ্লিক্সের জন্য পূর্ণাঙ্গ সিরিজে রূপ দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে ভিডিওটির নেতিবাচক মন্তব্যগুলো মুছে ফেলা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করতে পারেনি নিউজওয়্যার। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিক্রিয়াগুলো সামগ্রিক জনমতের প্রতিনিধিত্ব করে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
সূত্র: নিউজ.কম.এইউ