সিঁদুর খেলতে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তন্নি দে
বিয়ের মাত্র চার মাস, নতুন সংসারের স্বপ্ন ও বাবার বাড়িতে প্রথম দুর্গোৎসবের আনন্দ এক নিমেষেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। বিজয়া দশমীতে দেবীর কপালে সিঁদুর দিতে গিয়ে…
কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ঘটনাস্থল থ্রিডি স্ক্যান করেছে ফরেনসিক দল। মণ্ডপের নকশা, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথের প্রস্থ এবং দর্শনার্থীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার ফের ঘটনাস্থলে যায় কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। পরে মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকার ছবি থ্রিডি ক্যামেরায় ধারণ করেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা।
চোরবাগানের দুর্ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশ ছয় সদস্যের একটি সিট গঠন করেছে। গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে দলটি তদন্ত চালাচ্ছে। এর আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং দুর্ঘটনার সময় মণ্ডপে উপস্থিত সিভিক ভলান্টিয়ার ও ক্লাব সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তারা। এসব তথ্যের ভিত্তিতে শনিবারের দুর্ঘটনার ঘটনাক্রম পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের পর বুধবারও ঘটনাস্থলে গিয়েছিল সিট।
সিটের পর ঘটনাস্থলে যান ফরেনসিক বিভাগের সদস্যরাও। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন একই জায়গায় মণ্ডপটি রাখা সম্ভব নয়। তাই সেটি ভেঙে ফেলার আগে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি মণ্ডপের বর্তমান কাঠামো ও আশপাশের পরিস্থিতি নথিবদ্ধ করা হচ্ছে।
থ্রিডি স্ক্যানের মাধ্যমে মণ্ডপের পুরো কাঠামো এবং আশপাশের অংশের ত্রিমাত্রিক ছবি সংরক্ষণ করেছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। পরবর্তী সময়ে এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে মণ্ডপের বিন্যাস, চলাচলের পথ এবং দুর্ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
দুর্ঘটনার সময় ঠিক কী ঘটেছিল, তা বুঝতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আনন্দবাজার ডট কমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর সত্যতা সংবাদমাধ্যমটি স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি। ওই ভিডিওতে গ্রিল দিয়ে ঘেরা ঘোরানো চলাচলের পথের ওপর কয়েকজন দর্শনার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে যেতে দেখা যায়।
অন্য একটি ভিডিওতে মণ্ডপের বাইরের গেট থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ মিটার ভেতরে দর্শনার্থীদের মধ্যে প্রবল ঠেলাঠেলি ও ধাক্কাধাক্কির দৃশ্য দেখা যায়। কয়েকজন মাটিতে পড়ে যান। আতঙ্কিত মানুষের চিৎকারের মধ্যে এক পুলিশকর্মীকে বারবার ফোন করার চেষ্টা করতেও দেখা যায়। একজনকে ওই পুলিশকর্মীকে ধরে মাটি থেকে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনার আগে ও পরে মানুষের চলাচল, ভিড়ের চাপ এবং বিশৃঙ্খলা কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তা বোঝার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
দুর্ঘটনার সময় মণ্ডপ থেকে মাইকে করা একটি ঘোষণাও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে মাইকে ঘোষণা করা হয়েছিল, ‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে।’ একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের দ্রুত মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘোষণার পর দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায় এবং হুড়োহুড়ি শুরু হয়। বাজেয়াপ্ত সিসিটিভি ফুটেজেও ঘটনার এই ধারাবাহিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্তকারীদের ইঙ্গিত। তবে ঘোষণাটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট এবং এর সঙ্গে দুর্ঘটনার সম্পর্ক নির্ধারণে তদন্ত চলছে।
মণ্ডপের নকশা, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথের প্রস্থ, দর্শনার্থীদের চলাচল এবং ঘোষণার প্রভাবসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখছে সিট ও ফরেনসিক দল। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এ ঘটনায় ইতিমধ্যে পুজো কমিটির দুই কর্মকর্তাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সূত্র:আনন্দবাজার.কম
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au