সিঁদুর খেলতে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তন্নি দে
বিয়ের মাত্র চার মাস, নতুন সংসারের স্বপ্ন ও বাবার বাড়িতে প্রথম দুর্গোৎসবের আনন্দ এক নিমেষেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। বিজয়া দশমীতে দেবীর কপালে সিঁদুর দিতে গিয়ে…
চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সৌদি আরবে অন্তত ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫৯ জনই বিদেশি নাগরিক। এই তালিকায় বাংলাদেশের নাগরিকও রয়েছেন। ইউরোপীয় সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের (ইএসওএইচআর) পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
তবে সম্প্রতি পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে বছরের প্রথমার্ধে বিদেশি নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ইএসওএইচআর একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উচ্চ হার চলতি বছরেও অব্যাহত রয়েছে। দেশটির বর্তমান বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের শাসনামলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মোট সংখ্যা দুই হাজারে পৌঁছেছে, যা পূর্ববর্তী শাসনামলগুলোর তুলনায় সর্বোচ্চ।
ইএসওএইচআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ১০৮ জনের মধ্যে ৫৯ জন বিদেশি নাগরিক, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৫৪ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে সৌদি নাগরিক ছিলেন ৪৯ জন, যা প্রায় ৪৫ দশমিক ৪ শতাংশ।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বিদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ইথিওপিয়া, পাকিস্তান, সুদান, ইয়েমেন, সিরিয়া, জর্ডান, সোমালিয়া, মিসর, নাইজেরিয়া, বেনিন, ইরাক, কুয়েত, কেনিয়া, উগান্ডা ও আফগানিস্তানের নাগরিক রয়েছেন। সব মিলিয়ে ১৭টি দেশের নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য নথিবদ্ধ করেছে সংস্থাটি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রধান কারণ ছিল মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে ৭১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৬৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২৫ জনের, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলায় ৯ জনের এবং অন্যান্য অপরাধে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৯ জনই বিদেশি নাগরিক। তাঁদের মধ্যে ইথিওপিয়া, পাকিস্তান, সুদান ও ইয়েমেনের নাগরিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
ইএসওএইচআরের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম ছয় মাসে কার্যকর হওয়া ১০৮টি মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে ৮৩টি, অর্থাৎ প্রায় ৭৬ দশমিক ৯ শতাংশ, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কহীন অপরাধে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৮৪টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে ‘তাজির’ ধারার অধীনে। এ ব্যবস্থায় বিচারকের বিবেচনামূলক ক্ষমতার ভিত্তিতে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়। সংখ্যাটি মোট মৃত্যুদণ্ডের প্রায় ৭৭ দশমিক ৮ শতাংশ।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিদেরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। এসব মামলা দেশটির বিশেষায়িত ফৌজদারি আদালতে বিচার করা হয়।
এ ধরনের আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল গত জুনে সৌদি নাগরিক সৌদ আল-ফারাজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর। জাতিসংঘের আইনবহির্ভূত আটকাদেশবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ এর আগে তাঁর আটকাদেশকে বেআইনি ও স্বেচ্ছাচারী বলে বিবেচনা করেছিল।
এ ছাড়া ৯ এপ্রিল আলী আল-সুবাইতি নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে মাত্র ১২ বছর বয়সে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগও ছিল বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটি।
ইএসওএইচআরের তথ্য অনুযায়ী, শৈশবে সংঘটিত কথিত অপরাধের জন্য সৌদি আরবে অন্তত পাঁচজন এখনো মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন। জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ তাঁদের কয়েকজনের আটকাদেশকে বেআইনি ঘোষণা করে মুক্তির আহ্বান জানিয়েছিল। তবে সংস্থাটির অভিযোগ, তাঁদের জীবন রক্ষায় সৌদি কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
এ ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশের অভিযোগে দণ্ডিত আরও ৪৯ জন মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শেখ সালমান আল-আওদা ও শেখ হাসান আল-মালিকি। ২০১৮ সাল থেকে সরকারি কৌঁসুলিরা তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করে আসছেন। তবে তাঁদের বিচারপ্রক্রিয়া এখনো অমীমাংসিত রয়েছে বলে জানিয়েছে ইএসওএইচআর।
সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় থাকা বিদেশি বন্দীদের বিষয়েও তথ্য নথিবদ্ধ করেছে ইএসওএইচআর। সংস্থাটির হিসাবে, খামিস মুশাইত কারাগারে ৫৮ জন ইথিওপীয়, নাজরান কারাগারে পাঁচজন ইথিওপীয় ও পাঁচজন সোমালীয় এবং তাবুক কারাগারে আটজন মিসরীয় বন্দী মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
এসব বন্দীর বিচারপ্রক্রিয়ায় নানা ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে রয়েছে পেশাদার দোভাষীর অভাব, আইনি সহায়তা না পাওয়া, বিচারিক কার্যক্রম বুঝতে না পারা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের কার্যকর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ।
সংস্থাটির সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন বন্দী জানিয়েছেন, তাঁরা সব সময় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আতঙ্কে থাকেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় থাকা বন্দীদের কয়েক দিন আলাদা করে রাখা এবং বাইরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর হঠাৎ করে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ইএসওএইচআরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রথম ছয় মাসে কার্যকর হওয়া ১০৮টি মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে ৯১টি মামলার বিষয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সংস্থাটি বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো সংস্থা তথ্য জানতে পারেনি। এসব ঘটনা মোট সংখ্যার প্রায় ৮৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
সংস্থাটির মতে, এ চিত্র সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরে।
ইএসওএইচআর বলেছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই প্রবণতা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড এবং নির্যাতনবিরোধী কনভেনশন ও শিশু অধিকার সনদের অধীনে সৌদি আরবের অঙ্গীকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।
অন্যায্য বিচার, নির্যাতন, বৈষম্য এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যেও দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উচ্চ হার অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্র: রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au