অ্যাজমা বা হে ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ছবি: গ্যারি রামেজ
অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরা ও আশপাশের এলাকায় বজ্রঝড়জনিত অ্যাজমার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। রোববার (২৫ অক্টোবর) বাতাসের গতিবেগ বৃদ্ধি, বাতাসে পরাগরেণুর উচ্চমাত্রা এবং বজ্রঝড়ের পূর্বাভাসের কারণে এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
এক বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী অঞ্চল (ACT) সরকার জানিয়েছে, এসব আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে রোববার পুরো রাজধানী অঞ্চল ও আশপাশে ‘থান্ডারস্টর্ম অ্যাজমা’র ঝুঁকি বেড়েছে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
বজ্রঝড়জনিত অ্যাজমায় যে কেউ আক্রান্ত হতে পারেন। তবে যাঁদের আগে থেকে অ্যাজমা রয়েছে, বর্তমানে অ্যাজমায় ভুগছেন কিংবা হে ফিভার বা পরাগরেণুজনিত অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের কয়েকটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে:
- অ্যাজমা বা হে ফিভারের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণে রাখা।
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যাজমা বা হে ফিভারের জন্য নির্ধারিত ওষুধ সেবন করা এবং বাড়ির বাইরে গেলে ওষুধ সঙ্গে রাখা।
- ঘরের জানালা ও দরজা বন্ধ রেখে যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে অবস্থান করা।
- দমকা হাওয়ার সময় বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলা।
- বজ্রঝড়ের সময় বাইরে থেকে বাতাস টেনে আনে, এমন এয়ার কন্ডিশনার বন্ধ রাখা। এর মধ্যে ইভাপোরেটিভ কুলারও রয়েছে।
কোনো চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে অস্ট্রেলিয়ার জরুরি নম্বর ০০০-এ ফোন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স আসা পর্যন্ত ঘরের ভেতরে থাকতে বলা হয়েছে।
বিকেলে তীব্র বজ্রঝড়ের আশঙ্কা
অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার বিকেলে বজ্রঝড় হতে পারে। কোনো কোনো এলাকায় ঝড় তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এ সময় ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে এমন শক্তিশালী বাতাস, বড় আকারের শিলাবৃষ্টি ও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যাও দেখা দিতে পারে।
ACT সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার অর্থ বজ্রঝড়জনিত অ্যাজমার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ ধরনের ঘটনা বিরল।
এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে ACT সরকারের জনস্বাস্থ্য সতর্কতাবিষয়ক ওয়েবসাইটে।
সূত্র: দ্য ক্যানবেরা টাইমস