সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে জাতিসংঘের ফোরামের অধিবেশন। ছবিঃ সংগৃহীত
সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষা ও অগ্রগতিতে আঞ্চলিক উদ্যোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে আগামী ২৬ ও ২৭ নভেম্বর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের সংখ্যালঘু বিষয়ক ফোরামের ১৯তম অধিবেশন।
জাতিসংঘের প্রকাশিত অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী, এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য ‘আঞ্চলিক উদ্যোগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের অধিকার এগিয়ে নেওয়া’। জেনেভায় জাতিসংঘের প্যালেস দে নেশনসের অ্যাসেম্বলি হলে সরাসরি এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। ২৬ নভেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় অধিবেশন শুরু হয়ে ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
অধিবেশনে সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষা ও অগ্রগতিতে আঞ্চলিক পর্যায়ের উদ্যোগ এবং বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। তবে প্রকাশিত অনুষ্ঠান-সংক্রান্ত তথ্যপৃষ্ঠায় আলোচনার বিস্তারিত বিষয়, বক্তাদের নাম কিংবা অংশগ্রহণকারী দেশ ও সংস্থাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা উল্লেখ করা হয়নি।
জাতিসংঘের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ফোরামে সরাসরি অংশ নিতে আগ্রহী সব ব্যক্তি ও প্রতিনিধিকে নিবন্ধন করে স্বীকৃতি বা অ্যাক্রেডিটেশন নিতে হবে। এমনকি প্যালেস দে নেশনসে প্রবেশের জন্য আগে থেকেই বৈধ প্রবেশপত্র রয়েছে, এমন প্রতিনিধিদেরও এই অধিবেশনের জন্য নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের শেষ সময় ১৫ নভেম্বর ২০২৬, জেনেভার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫৯ মিনিট। নির্ধারিত সময়ের পর আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
নিবন্ধনের জন্য অংশগ্রহণকারীদের Indico.UN প্ল্যাটফর্মে প্রোফাইল তৈরি করে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদন সম্পন্ন হলে ই-মেইলে স্বয়ংক্রিয় নিশ্চিতকরণ বার্তা ও একটি কিউআর কোড পাঠানো হবে। অধিবেশনস্থলে পৌঁছানোর পর জাতিসংঘের নিরাপত্তাকর্মীরা কোডটি স্ক্যান করে অংশগ্রহণকারীর অ্যাক্রেডিটেশন ব্যাজ সক্রিয় করবেন।
ফোরামে অংশ নেওয়া সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা সীমিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন পক্ষের অংশগ্রহণের সুযোগকে আরও বিস্তৃত ও সমতাভিত্তিক করা।
অধিবেশনের তিনটি প্যানেলের যেকোনো একটিতে মৌখিক বক্তব্য দেওয়ার জন্য প্রতিটি অংশগ্রহণকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান পরবর্তী সময়ে নিবন্ধিত প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে একজনকে মনোনীত করতে পারবে। তবে এ জন্য আলাদাভাবে বক্তার তালিকায় নিবন্ধন করতে হবে। বক্তা হিসেবে নিবন্ধনের সময়সীমা ১৬ থেকে ২২ নভেম্বর ২০২৬। এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা ফোরামের নির্ধারিত ওয়েবপৃষ্ঠায় প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে অধিবেশনে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের জন্যও অ্যাক্রেডিটেশনের আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। ফলে আগ্রহী সাংবাদিকদেরও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বীকৃতির জন্য আবেদন করতে হবে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে আলোচনা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জাতিসংঘের এই ফোরাম একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। এবারের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্যে আঞ্চলিক উদ্যোগ ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে অধিবেশনে বাংলাদেশ বা কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রতিনিধিত্ব, অংশগ্রহণ কিংবা কোনো দেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ আলোচনা হবে কি না, তা প্রকাশিত অনুষ্ঠান-সংক্রান্ত তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সূত্র: জাতিসংঘের Indico.UN-এ প্রকাশিত অধিবেশনের বিজ্ঞপ্তি