তাওসিফের বাবা একেএম এনায়েতুল করিম। ছবি : সংগৃহীত
বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাওসিফ সাউরীকে হত্যা করে তাঁর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাবা একেএম এনায়েতুল করিম।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ছেলের ময়নাতদন্ত শেষে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের কাছে এ সন্দেহের কথা জানান তিনি।
তাওসিফের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন তাঁর বাবা। তিনি বলেন, তাওসিফ অত্যন্ত ভালো ব্যক্তিত্বের মানুষ ছিলেন। একজন কমিশনড অফিসার হতে তাঁকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। বিভিন্ন কোর্স সম্পন্ন করে তিনি এ অবস্থানে পৌঁছেছিলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এনায়েতুল করিম বলেন, ‘হত্যা করা হয়েছে, তাকে নিয়ে নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে আমি সাসপেক্ট করি।’ তবে তাঁর এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ বা তদন্তের ফলাফল এখনো জানা যায়নি।
ছেলের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাবা হিসেবে তাওসিফের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। ছেলে তাঁর সঙ্গে অনেক বিষয় ভাগাভাগি করতেন। এমনকি বিয়ে নিয়েও তাঁদের মধ্যে কথা হতো।
তাওসিফের বাবা জানান, নিখোঁজ হওয়ার দিন মঙ্গলবার প্রায় পুরো সময় মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় দ্বীপ নামে এক ব্যক্তি ফোন করলে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে আসার কথা জানিয়ে বাসা থেকে বের হন তাওসিফ।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তাওসিফের আচরণে অস্বাভাবিক কিছু মনে হয়নি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে ‘আম্মু, আমি আসছি’ লিখে বার্তা পাঠান তিনি।
সিসিটিভি ফুটেজে তাওসিফকে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পরিবার। তবে তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাওসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণকারী হিসেবে আলোচনায় আসা তাওসিফকে বিমানবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে চাকরিসংক্রান্ত কোনো ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাওসিফের মরদেহ উত্তরায় তাঁর বাসার নিচে নেওয়া হয়। এ সময় স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় মসজিদে জানাজা শেষে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের গোরস্তানে তাঁকে দাফনের কথা রয়েছে।