যুদ্ধ এড়াতে চায় আমিরাত, তবে প্রস্তুতি রাখছে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কোনো সংঘাত চায় না সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে আবারও যুদ্ধ শুরু হলে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি…
সুইজারল্যান্ডের জুরিখ ও বাসেল শহরে অনুমতি ছাড়া আয়োজিত দুটি বিক্ষোভ কর্মসূচি সহিংস রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করেছে। রাত পর্যন্ত কয়েক দফায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলে।
সোমবার (২ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সুইজারল্যান্ডের সংবাদমাধ্যমগুলো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুরিখের কেন্দ্রীয় ল্যাংস্ট্রাসে এলাকায় শত শত মানুষ জড়ো হন। তাদের অনেকের মুখে ছিল হ্যালোউইন উপলক্ষে ব্যবহৃত মুখোশ। পরে তারা প্রধান রেলস্টেশন থেকে কয়েকশ মিটার দূরে হেলভেটিয়াপ্লাটজের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান। এ সময় বিক্ষোভকারীরা আতশবাজি ও জ্বলন্ত সংকেত বাতি ফোটান।
বার্তা সংস্থা কিস্টোন-এটিএসের এক সাংবাদিক জানান, বিক্ষোভকারীরা হেলভেটিয়াপ্লাটজে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে একটি বাসস্টপের ছাউনি ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি আবর্জনার ঝুড়ি, সাইকেল ও অন্যান্য জিনিসপত্র দিয়ে তৈরি একটি প্রতিবন্ধকতায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
জুরিখের পৌর পুলিশ জানায়, বিক্ষোভকারীদের ছোট ছোট দল শহরের বিভিন্ন স্থানে আবর্জনার ঝুড়িতে আগুন দেয়। এ ছাড়া একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং কয়েকটি দোকানের কাচ ভাঙচুর করা হয়। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা তাদের লক্ষ্য করে বারবার আতশবাজি, বোতল ও পাথর ছুড়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। রাত দেড়টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলে।
এদিকে জরুরি চিকিৎসাসেবার একটি ডাকে সাড়া দিতে যাওয়ার সময় পুলিশের একটি টহল দলও হামলার মুখে পড়ে। এতে পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পায়ে গুরুতর আঘাত পাওয়া এক কিশোরকে সহায়তা করতে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই পুলিশ সদস্যদের সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়।
অন্যদিকে, বাসেলের কেন্দ্রস্থলেও বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ক্যান্টন পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, রাত ৯টার দিকে শহরের কেন্দ্রে প্রায় ১৫০ জন মানুষ জড়ো হন। কয়েকটি বক্তৃতার পর বিক্ষোভকারীরা রাইন নদীর ওপর নির্মিত মিতলের রাইনব্রুকে সেতু পার হয়ে শহরের অন্য অংশে যান। সেতুটি নদীর বাম তীরের শহরকেন্দ্রের সঙ্গে ডান তীরের ক্লাইনবাসেল এলাকাকে যুক্ত করেছে।
পরে মিছিলটি ঐতিহাসিক শহরকেন্দ্র মার্কটপ্লাৎজ হয়ে উত্তরের সেন্ট জোহান এলাকার দিকে এগিয়ে যায়। সেখানে কয়েকজন বিক্ষোভকারী আবর্জনার ঝুড়ি ও ধাতব প্রতিবন্ধক দিয়ে তৈরি ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুরিখ ও বাসেলের বিক্ষোভকারীরা ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তরুণদের আন্দোলনের সঙ্গে নিজেদের কর্মসূচির তুলনা করেছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ‘জেন-জি রেগেল্ট!’ স্লোগান ব্যবহার করে মানুষকে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। জার্মানির তরুণ বিক্ষোভকারীরাও একই স্লোগান ব্যবহার করছেন। এর অর্থ, ‘জেনারেশন জেড এখন দায়িত্বে’।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au