যুদ্ধ এড়াতে চায় আমিরাত, তবে প্রস্তুতি রাখছে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কোনো সংঘাত চায় না সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে আবারও যুদ্ধ শুরু হলে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি…
অস্ট্রেলিয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লড়াই এখনো শেষ হয়নি বলে সতর্ক করেছে দেশটির অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক ওয়েস্টপ্যাক। মঙ্গলবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার (আরবিএ) সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার মধ্যে ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্থনি মিলার এ মন্তব্য করেন। এদিকে সুদের হার বাড়ানো হলে দেশটির কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতারা।
ওয়েস্টপ্যাকের প্রধান নির্বাহী অ্যান্থনি মিলার বলেন, মূল্যস্ফীতি কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখবে বলে তিনি মনে করছেন। এ বছর ইতিমধ্যে চার দফা সুদের হার বাড়ানো হয়েছে। সামনে আরও এক বা দুই দফা বাড়ানো হতে পারে।
সোমবার প্রকাশিত ওয়েস্টপ্যাকের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া অর্থবছরে ব্যাংকটির নিট মুনাফা হয়েছে ৬৮০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১ শতাংশ কম। এককালীন আয়-ব্যয় বাদ দিলে ব্যাংকটির নগদ মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৭০০ কোটি ডলার। পুরো বছরের জন্য শেয়ারপ্রতি ১ দশমিক ৫৪ ডলার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ব্যাংকটি।
অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম আবাসন ঋণদাতা ওয়েস্টপ্যাকের এই আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের এক দিন পরই সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে যাচ্ছে আরবিএ। ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিনির্ধারণী সুদের হার বাড়িয়ে ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ করতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ান ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউ–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুদের হার বাড়ানো হলে গড় আবাসন ঋণের বিপরীতে একজন ঋণগ্রহীতার বার্ষিক কিস্তি ৬ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলারের বেশি বেড়ে যেতে পারে।
এর ফলে ১৯৮০-এর দশকের পর প্রথমবারের মতো মধ্যম দামের বাড়ির ঋণের কিস্তি পরিশোধে পরিবারগুলোকে আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ ব্যয় করতে হতে পারে।
গত সেপ্টেম্বরে আরবিএর গভর্নর মিশেল বুলক বলেছিলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ আবারও সুদের হার বাড়াবে।
তবে সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। গত সপ্তাহে নাইন নিউজপেপার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সুদের হার বাড়ানোকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের একটি ‘ভোঁতা হাতিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নিউ সাউথ ওয়েলসের মুখ্যমন্ত্রী ক্রিস মিনসও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বাজারের প্রত্যাশা অনুযায়ী মঙ্গলবার সুদের হার বাড়ানো হলে রাজ্যের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।
মিনস বলেন, ‘আমি মনে করি না, এটি কোনো সহজ সিদ্ধান্ত। সুদের হার আরও বাড়ানো হলে নিউ সাউথ ওয়েলসের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। অনেক মানুষ চাকরি হারাবেন, যাঁরা আর কখনো সেই চাকরিতে ফিরতে পারবেন না। অনেক দোকান বন্ধ হয়ে যাবে, যেগুলো আর খুলবে না।’
তিনি আরও বলেন, বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত।
আবাসন বাজারে চাপ বাড়ার আশঙ্কা
ওয়েস্টপ্যাকের প্রধান নির্বাহী মিলার সতর্ক করে বলেন, এ বছর চার দফা সুদের হার বৃদ্ধি এবং মে মাস থেকে কার্যকর হওয়া লেবার সরকারের করসংক্রান্ত পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে আবাসন বাজারে।
তবে অতীতেও অস্ট্রেলিয়ার আবাসন বাজার এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ২০০৮ সালের পর থেকে দেশটির আবাসন বাজারে চারবার মন্দা দেখা দিয়েছে।
মিলার বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় আবাসনের চাহিদা সরবরাহের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে বাজারে চাপ থাকলেও আবাসনের দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি নিয়েও আশাবাদী মিলার। তিনি বলেন, দেশটিতে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ বাড়ছে, যা অর্থনীতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
মূল্যস্ফীতি এখনো লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে
স্বল্পমেয়াদে সুদের হার আরও বাড়ার সম্ভাবনা দেখছে আর্থিক বাজার। মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে আরবিএর দুই দিনব্যাপী পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হবে। একই দিন দেশটিতে মেলবোর্ন কাপ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হবে।
বাজারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮২ শতাংশ।
অস্ট্রেলিয়ায় মূল্যস্ফীতি এখনো আরবিএর নির্ধারিত ২ থেকে ৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে রয়েছে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২ মাসে দেশটির সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে, যা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি।
মূল্যস্ফীতি কমাতে সুদের হার বাড়িয়ে পরিবারগুলোর ব্যয় করার সক্ষমতা কমানোর কৌশল নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঋণের কিস্তি ও অন্যান্য ব্যয় বেড়ে গেলে পরিবারগুলো ভোগ্যপণ্য ও সেবায় খরচ কমাবে। এতে সামগ্রিক চাহিদা কমে মূল্যস্ফীতির চাপও কমবে বলে আশা করছে আরবিএ।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারণ, সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সুদের হার বাড়ার আগেই অস্ট্রেলিয়ার পরিবারগুলোর ব্যয় স্থবির হয়ে পড়েছে।
সূত্র: নাইন.কম.এইউ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au