বাংলাদেশ

ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের পিটুনিতে প্রাণ গেল মায়ের

  • 3:17 pm - November 04, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৪৭ বার
ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

নীলফামারীর ডিমলায় জমি ও ফসল কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় মিনা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। ছোট ছেলেকে মারধরের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মিনা বেগম ওই এলাকার জামিনুর রহমানের স্ত্রী। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিরা হলেন উত্তর সোনাখুলি গুচ্ছগ্রাম এলাকার আমেতুল্লাহ মুন্সির ছেলে সামছুল হক (৬৫), আয়নাল হকের ছেলে সবুজ (২৮), আয়নাল হকের স্ত্রী ছবিরন (৫০) এবং আয়নাল হকের মেয়ে রাহেনা বেগম (২৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিনা বেগমের ছেলে মিলনের (২৬) সঙ্গে আয়নাল হকের মেয়ে হামিদা বেগমের (২২) বিয়ে হয়। বিয়ের কাবিন ও যৌতুকের অংশ হিসেবে আয়নাল হক একটি বন্ধকি জমি জামাতা মিলনকে চাষাবাদের জন্য দেন। তবে কিছুদিন পর ওই জমির দখল ও চাষাবাদসহ পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

এ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে উভয় পক্ষের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত হয়, চলতি মৌসুমের ধান কাটা শেষ হলে স্থানীয়ভাবে বসে জমি নিয়ে বিরোধের স্থায়ী সমাধান করা হবে।

কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলে ওই জমি থেকে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য ধানগাছের অবশিষ্টাংশ কাটতে যান মিলনের ছোট ভাই মস্তো মিয়া (১৪)। এ সময় আয়নাল হক ও তার ছেলে সবুজসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর শুরু করেন।

ছেলের চিৎকার শুনে তাকে রক্ষা করতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান মিনা বেগম। এ সময় হামলাকারীরা তার ওপরও চড়াও হন। লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করলে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা খলিলুর রহমান ও হযরত আলী জানান, মিনা বেগমের মৃত্যুর পরও আটক ব্যক্তিসহ ৫ থেকে ৭ জন ওই জমিতে ধান কাটতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন ধান কাটার সময় চারজনকে হাতেনাতে আটক করেন। খবর পেয়ে ডিমলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আটক ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে যায়।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে যৌতুকের জমি ও ফসল কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

ওসি আরও বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পলাতক অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

এই শাখার আরও খবর

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার ছয় দিন পর পদত্যাগ করলেন পরিবহনমন্ত্রী

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৯ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হওয়ার ছয় দিন পর পদত্যাগ করেছেন দেশটির পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর)…

‘সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান’— এনসিপি আসলে কী চাইছে?

ভাস্কর দত্ত :  শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে যৌক্তিক আখ্যা দিয়ে জনগণকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।…

রোহিঙ্গা গণহত্যা: মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ১৯ নভেম্বর রায় দেবে আইসিজে

রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় আগামী ১৯ নভেম্বর ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আদালত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ…

ইরানে আপাতত হামলার পরিকল্পনা নেই, তবে প্রস্তুত মার্কিন বাহিনী: ট্রাম্প

ইরানে আপাতত নতুন করে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পরিস্থিতির প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নিতে মার্কিন বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত…

ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নাকচ, ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে অনড় পোশাকশ্রমিকেরা

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকেরা তাঁদের আন্দোলনে রাজনৈতিক উসকানি ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নাকচ করেছেন। তাঁদের দাবি, কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্ররোচনায় নয়,…

মিরপুরের হতাশা পেছনে ফেলে সিলেটে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ

সিলেটের মাঠ কি বাংলাদেশের জন্য পয়া? পরিসংখ্যান বলছে, উত্তরটা সহজ নয়। এই মাঠে এখন পর্যন্ত ছয়টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। জয় ও পরাজয় সমান তিনটি করে।…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au