‘সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান’— এনসিপি আসলে কী চাইছে?
ভাস্কর দত্ত : শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে যৌক্তিক আখ্যা দিয়ে জনগণকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।…
ইরানে আপাতত নতুন করে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পরিস্থিতির প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নিতে মার্কিন বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, ওই হামলা ছিল সীমিত সামরিক পদক্ষেপ, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর কোনো ইঙ্গিত নয়।
বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের বর্তমান অবস্থানকে ‘চমৎকার পরিস্থিতি’ বলে অভিহিত করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে তার প্রশাসন বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট। তার ভাষায়, ‘আমরা যা চাই, সবই যেন পেয়ে যাচ্ছি।’
চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ইরানে হামলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দেওয়া ইঙ্গিত সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনী যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তবে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি প্রস্তুত, আমরাও প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত অবস্থায় আছি। তবে এর কোনো কারণ নাও থাকতে পারে।’
এদিকে গালফ নিউজ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের কেশম দ্বীপে একটি আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনায় মার্কিন বাহিনীর হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রায় দুই মাস ধরে ওই স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছিল যুক্তরাষ্ট্র। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরপরই সেখানে হামলা চালানো হয়।
ট্রাম্পের দাবি, ইরান সেখানে একটি বিমানবিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছিল। তিনি বলেন, ‘তাদের কোনো বিমানবিধ্বংসী ব্যবস্থা নেই। গত রাতে আমরা কিছু ধ্বংস করেছি। তারা একটি বিমানবিধ্বংসী স্থাপনা তৈরি করেছিল। এতে প্রায় দুই মাস সময় লেগেছে। আমরা সেটি তৈরি হতে দেখেছি। নির্মাণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা হামলা চালিয়েছি।’
তবে এই অভিযানকে সীমিত পরিসরের সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ট্রাম্প। তার দাবি, এর অর্থ ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু করা নয়।
এর আগে সোমবার রাতে কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশিত হয়। পরে মার্কিন কর্মকর্তারা ওই হামলাকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাদের দাবি, ইরানি বাহিনী মার্কিন সামরিক সম্পদ লক্ষ্য করে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল।
এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও ইরানে বড় ধরনের প্রাণহানি চান না বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী সামরিক পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্র পিছপা হবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘দেখুন, আমি অনেক মানুষকে হত্যা করতে চাই না। কিন্তু আমাদের যদি তা করতে হয়, তাহলে করতে হবে।’
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au