মার্কিন বিমান হামলায় জ্বলছে ইয়েমেনের রাস ইসা তেলবন্দর। ছবি: আল-জাজিরা
মেলবোর্ন, ১৮ এপ্রিল— ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান নেওয়ার জেরে পশ্চিম এশিয়ার দরিদ্র আরব দেশ ইয়েমেনের রাস ইসা তেলবন্দরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) এ হামলায় ৩৮ জন নিহত হয়েছে। হামলায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্স, আল-জাজিরা ও বিবিসির প্রতিবেদন এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হুতি পরিচালিত সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ শুরুর পর থেকে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতি হামলার একটি।
মার্কিন সামরিক বাহিনী এই হামলার কারণ হিসেবে জানিয়েছে, তারা হুথি যোদ্ধাদের জ্বালানির সরবরাহ বন্ধ করতে চেয়েছিল।
লোহিত সাগরে ইসরায়েলগামী জাহাজ চলাচলের ওপর হুথিদের আক্রমণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী ইয়েমেনের এই গোষ্ঠীর অবস্থানগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জানায়, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল হুথিদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া।
অন্যদিকে, ইসরায়েল গাজায় তাদের প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত রেখেছে। বৃহস্পতিবারের হামলায় ৩২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর, শুক্রবার সকালে অবরুদ্ধ এই উপত্যকার খান ইউনিসে আরও একটি হামলায় একই পরিবারের ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা গাজার পরিস্থিতিকে বর্তমান প্রজন্মের সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত মোট ৫১ হাজার ৬৫ জন নিহত এবং এক লাখ ১৬ হাজার ৫০৫ জন আহত হয়েছেন। তবে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের দাবি, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ব্যক্তিদেরও গণনায় ধরলে মৃতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে যাবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী দল হামাস ইসরায়েলে ঢুকে হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা আড়াই শতাধিক মানুষকে জিম্মি করার জেরে এই যুদ্ধ শুরু হয়।