ওটিএন বাংলা রিপোর্ট :
রাজধানী ঢাকায় এক রাতেই অন্তত পাঁচটি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত খিলগাঁও, আদাবর, শাহবাগ, বিমানবন্দর ও মিরপুরের কালশী এলাকায় এসব বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
কোনো কোনো স্থানে মোটরসাইকেলে এসে ককটেল নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সবচেয়ে আগে সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটের দিকে খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরের ভেতরে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ওসি জানান, আশপাশের কোনো ভবনের ছাদ কিংবা নিচের কোনো জায়গা থেকে ককটেলটি নিক্ষেপ করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এরপর রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে আদাবর থানার পাশে সেইলর শোরুমের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি ককটেল নিক্ষেপ করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফজলুল হক জানান, আদাবরের ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এ বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
রাত আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে শাহবাগ থানার আইবি গেটের সামনে পুলিশের ডিউটি গাড়ি লক্ষ্য করে একটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। মোটরসাইকেলে থাকা ব্যক্তিরা এ ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যান।
এরপর রাত ১২টা ১ মিনিটের দিকে শাহবাগের জুলাই চত্বরের পাশেও আরেকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। শাহবাগ থানার ডিউটি কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল খালেক জানান, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
এদিকে শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে বিমানবন্দরের গোলচত্বরে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার জানান, উড়ালসেতু থেকে ককটেল দুটি নিক্ষেপ করে জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যান। এ ঘটনায়ও কেউ আহত হননি।
এ ছাড়া রাতের দিকে মিরপুরের কালশী মোড়েও ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একটি ভিডিওতে নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেলে আসা ব্যক্তিদের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে।
এক রাতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, থানা ও জনবহুল এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পুলিশের ডিউটি গাড়ি, থানা ও আনসার সদর দপ্তরের আশপাশে বিস্ফোরণের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।