শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙল এনসিপি নেতারা
ওটিএন বাংলা ডেস্ক : ভাষাসৈনিক ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের কুমিল্লার ঐতিহাসিক বাসভবনের সামনে স্থাপিত সাইনবোর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।…
ভাস্কর দত্ত :
রাজধানীর রাজপথে প্রকাশ্যে মিছিল-সমাবেশের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। কখনো ঝটিকা মিছিল, কখনো মশাল মিছিল, আবার কখনো মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে শোডাউন—বিভিন্ন কৌশলে ঢাকার এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা।
চলতি বছরের নভেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনেই একাধিক এলাকায় এমন তৎপরতা দেখা গেছে। গত ৫ নভেম্বর সকালে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে ৭০ থেকে ৮০টি মোটরসাইকেলের একটি বহর মিছিল নিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বনানীর দিক থেকে কুড়িল বিশ্বরোডের দিকে যাওয়ার সময় বহরটি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছিল। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মিছিল থেকে পুলিশের টহল গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। বিস্ফোরণে গাড়ির চালক কনস্টেবল মো. এনামুল আহত হন। এ ঘটনায় একটি মোটরসাইকেলসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
এর দুই দিন আগে, ২ নভেম্বর রাজধানীর ডেমরার কোনাপাড়া এলাকায় ঝটিকা মিছিল করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের অন্তর্ভুক্ত ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও টহল পুলিশ এগিয়ে গেলে মিছিলকারীরা দ্রুত সরে যান। ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগের দিন ১ নভেম্বর কল্যাণপুরে মশাল মিছিল করেন মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সন্ধ্যায় দারুসসালাম এলাকা থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে মশাল হাতে অংশ নিতে দেখা যায়।
শুধু নভেম্বরেই নয়, সেপ্টেম্বরেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দলটির ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। ২৪ সেপ্টেম্বর বাড্ডার প্রগতি সরণি ও গুলশানের পুলিশ প্লাজা এলাকায় পৃথক দুটি মিছিল বের করা হয়। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে বড় জমায়েত করে মিছিল বের করেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ওই ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালায় এবং পরবর্তী সময়ে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় ঢাকা মহানগর পুলিশ।
একই কৌশলে বারবার রাজপথে
ঘটনাগুলোর ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মিছিলকারীরা সাধারণত নির্দিষ্ট এলাকায় হঠাৎ জড়ো হন। অল্প সময়ের মধ্যে স্লোগান দিয়ে মিছিল বের করেন, ভিডিও ধারণ ও প্রচারের পর দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। কোথাও মোটরসাইকেলের বহর, কোথাও মশাল, আবার কোথাও ব্যানার নিয়ে তাঁদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
ফলে মিছিলের খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অনেক ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের আটক করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব মিছিলের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। এতে মাঠে উপস্থিতির পাশাপাশি অনলাইনেও নিজেদের সাংগঠনিক তৎপরতা জানান দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন মিছিলকারীরা।
নজরদারির মধ্যেও কীভাবে মিছিল?
রাজধানীতে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সন্দেহজনক জমায়েত ঠেকাতে পুলিশের টহল ও নজরদারি রয়েছে। তারপরও একই ধরনের ঘটনা একের পর এক ঘটায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আগাম তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোটরসাইকেলের বড় বহর নিয়ে মিছিল বের হওয়া এবং পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
রাজধানীর একের পর এক এলাকায় ঝটিকা মিছিল, মশাল মিছিল ও মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে শোডাউন—সব মিলিয়ে ঢাকার রাজপথে নিজেদের উপস্থিতি ক্রমেই দৃশ্যমান করছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
কয়েক দিন আগেও যেসব এলাকায় প্রকাশ্যে মিছিল করার সুযোগ ছিল না, সেখানেও এখন হঠাৎ জড়ো হয়ে স্লোগান দিচ্ছেন তাঁরা। কোথাও পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে, কোথাও অভিযান শুরুর আগেই সরে গিয়ে নিজেদের কর্মসূচি চালাচ্ছেন।
এভাবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় বারবার মিছিল বের করার মধ্য দিয়ে রাজপথে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে দলটি। প্রশ্ন হচ্ছে, বিচ্ছিন্ন ঝটিকা মিছিল থেকে এই তৎপরতা কি ধীরে ধীরে ঢাকার রাজপথে আধিপত্য বিস্তারের কৌশলে রূপ নিচ্ছে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সময়মতো তা মোকাবিলা করতে না পারলে রাজধানীর রাজপথে দলটির উপস্থিতি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au