মার্কিন বিমান হামলা জ্বলছে ইয়েমেনের তেল বন্দর। ছবি: আল মাসিরা টিভি
মেলবোর্ন, ১৯ এপ্রিল— ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান নেওয়ার জেরে পশ্চিম এশিয়ার দরিদ্র আরব দেশ ইয়েমেনের রাস ইসা তেলবন্দরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) চালানো এই হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। হামলায় আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক মানুষ।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ শুরুর পর থেকে এটি সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতি হামলা।
মার্কিন সামরিক বাহিনী এই হামলার কারণ হিসেবে জানিয়েছে, তারা হুথি যোদ্ধাদের জ্বালানির সরবরাহ বন্ধ করতে চেয়েছিল।
লোহিত সাগরে ইসরায়েলগামী জাহাজ চলাচলের ওপর হুথিদের আক্রমণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী ইয়েমেনের এই গোষ্ঠীর অবস্থানগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জানায়, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল হুথিদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া।
অন্যদিকে, ইসরায়েল গাজায় তাদের প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত রেখেছে। বৃহস্পতিবারের হামলায় ৩২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর, শুক্রবার সকালে অবরুদ্ধ এই উপত্যকার খান ইউনিসে আরও একটি হামলায় একই পরিবারের ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আর শনিবার প্রাণ হারিয়েছেন ৬৪ জন।
বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা গাজার পরিস্থিতিকে বর্তমান প্রজন্মের সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত মোট ৫১ হাজার ৬৫ জন নিহত এবং এক লাখ ১৬ হাজার ৫০৫ জন আহত হয়েছেন। তবে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের দাবি, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ব্যক্তিদেরও গণনায় ধরলে মৃতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে যাবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী দল হামাস ইসরায়েলে ঢুকে হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা আড়াই শতাধিক মানুষকে জিম্মি করার জেরে এই যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে ইয়েমেন। এর বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।
‘তেহরানের প্রতি বার্তা’
টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবারের হামলাগুলো এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র শনিবার রোমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল যে, তেহরান একটি পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের কাছাকাছি চলে এসেছে।
“ইয়েমেনে সামরিক পদক্ষেপগুলো স্পষ্টভাবে তেহরানকে একটি বার্তা দিচ্ছে,” যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরামর্শক মোহাম্মদ আলবাশা এএফপিকে বলেন।
গত এক মাস ধরে হুথিদের বিরুদ্ধে প্রায় প্রতিদিনই বিমান হামলা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী, যাতে করে লাল সাগর এবং অ্যাডেন উপসাগরে তাদের জাহাজে আক্রমণ বন্ধ করা যায়।
শুক্রবার আগে, যখন রাস ইসায় নিহতের সংখ্যা ৭৪ ছিল, তখন আলবাশা বলেছিলেন যে মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন করে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় মোট মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯৮ জনে।